মোহাম্মদপুরে গ্যাং কালচারের ভয়াবহ রূপ: আধিপত্য বিস্তারের জেরে বাবা গুলিবিদ্ধ, ছেলেকে কুপিয়ে জখম

0
মোহাম্মদপুরে গ্যাং কালচারের ভয়াবহ রূপ: আধিপত্য বিস্তারের জেরে বাবা গুলিবিদ্ধ, ছেলেকে কুপিয়ে জখম

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও স্থানীয় দুষ্কৃতকারীদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে তীব্র রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র প্রদর্শন, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গোলাগুলির পর চাপাতির কোপে বাবা ও ছেলে গুরুত্বর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তা মোড় সংলগ্ন ‘ময়ূর ভিলা’র কাছে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাবা সুমন আলী (৪৫) এবং এলোপাতাড়ি কোপে আহত ছেলে ফাহিমকে (১৯) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর ও রায়েরবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবাদে লিপ্ত রয়েছে ‘পাটালি গ্রুপ’ ও ‘সাব্বির গ্রুপ’। এই দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও শক্তি প্রদর্শনের জেরে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রায়েরবাজার এলাকায় সাব্বির গ্রুপের ওপর পাটালি গ্রুপের সদস্যরা হামলা চালায় এবং তাতে একজন আহত হন। মূলত ওই হামলার প্রতিশোধ নিতেই বৃহস্পতিবার রাতে পাটালি গ্রুপের ওপর বিপরীত পক্ষ পাল্টা হামলা চালায়।

সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত সুমন আলী ‘পাটালি গ্রুপ’-এর সক্রিয় সদস্য বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আর হামলায় আহত তরুণ ফাহিম মূলত বাবাকে বাঁচাতে গেলে প্রতিপক্ষের চাপাতির কোপে গুরুতর জখম হন।

তদন্তে জানা গেছে, এই দুই গ্রুপের সংঘাতের ইতিহাস নতুন নয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার ‘রাজ বারবার জোন’ সেলুনে চুল কাটানোর সময় ফরহাদ নামে এক যুবককে অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ফরহাদও পাটালি গ্রুপের সদস্য ছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহত ফরহাদ ছিলেন বৃহস্পতিবার রাতে গুলিবিদ্ধ হওয়া সুমন আলীর শ্যালক (ভগ্নিপতি)। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পরিবারকে লক্ষ্য করে ও গ্যাং বিরোধের জেরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে অপরাধী চক্রটি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় গ্যাং কালচার ও ছিনতাইকারীদের দমনে পুলিশি অভিযান নিয়মিত চলছে বলে দাবি করে পুলিশ। সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন, “এসব স্থানীয় সন্ত্রাসী ও গ্যাং গ্রুপের মধ্যে ঘন ঘন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকা শান্ত রাখতে গত কয়েকদিনেই এসব বাহিনীর অন্তত অর্ধশত (৫০ জন) সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছিল।”

তবে আইনি প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “গ্রেফতারকৃতরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও পুরনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং সংঘাত সৃষ্টি করছে।”

ঘটনার পর পরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও টহল জোরদার রয়েছে। সবশেষ এই হামলার ঘটনায় জড়িত ও মূল হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে রাত থেকেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।