ঋণ নয় ক্ষতিপুরন চাই, জলাবায়ু পরিবর্তনে ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপুরণের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অবস্থান কর্মসূচি

0
ঋণ নয় ক্ষতিপুরন চাই, জলাবায়ু পরিবর্তনে ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপুরণের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অবস্থান কর্মসূচি

কলাপাড়া প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপুরণের পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এই কর্মূসূচিতে বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ অংশ নেয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কলাপাড়া উপজেলা সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, পরিবেশ সংগঠক তানজিল জামান জয়, নজরুল ইসলাম, নাজমুস সাকিব, শিক্ষার্থী সাব্বির প্রমুখ।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), নদী, জলাশয় ও বনসম্পদ রক্ষায় কাজ করা পরিবেশবাদি উদ্যোগ ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করে।

বক্তারা বলেন, জলাবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিকপুরণের আজকে কোন দয়া নয় এটি আমাদের অধিকার। জীবাশ্ম জালানি নির্ভর অর্থনীতি থেকে উন্নত দেশগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে। এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। শক্তিশালী শিল্পোন্নত দেশ ও করপোরেশনগুলো একই সুবিধা গ্রহণ করছে। অথচ বন্যা, খরা, ঘুর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও ফসলাহানির সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছেন কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জনগণ। জলবায়ু অভিযোজনের নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে নতুন ঋণের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এাঁ চলতে পারে না। বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজন অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তরর এবং ঐতিহাসিকভাবে অধিক দূষণকারী দেশগুলোর ক্ষতিপুরণ। নবায়নযোগ্য জালনির প্রসারও হতে হবে জনগণের স্বার্থে-করপোরেট মুনাফা বৃদ্ধিও নতুন ক্ষেত্র হিসেবে নয়। সাশ্রয়ী জালানি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া কৃষি জমি, খাদ্য ও উৎপাদনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

যেখানে বাংলাদেশের খাস জমিতে ভূমিহীন মানুষের অধিকার, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, স্থানীয় বীজের সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী কৃষকের শ্রম ও জমির অধিকার স্বীকৃতি দিতে হবে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক ও প্রথাগত ভূমি অধিকার রক্ষা করতে হবে। খাদ্যকে করপোরেট মুনাফার পণ্য নয়, মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই প্রশ্ন উন্নয়ন কার স্বার্থে এবং সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? যে অর্থনীতিতে মানুষের শ্রমে সম্পদ সৃষ্টি হয়, সেই অর্থনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারও জনগণের থাকতে হবে। তাই মুনাফার পৃথিবী নয়, মানুষের পৃথিবী গড়তে হবে। এজন্য শুধু সভা সেমিনার করে এই দাবি বাস্তবায়ন করা যাবে না। এজন্য কৃষক-শ্রমিকের ঐক্য, নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সম্মিলিত আন্দোলন প্রয়োজন।