
কক্সাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ এলাকার সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন আরও ৭ জন। তিনতলা কাঠের স্থাপনাটি মুহূর্তেই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ছুটি কাটাতে কক্সবাজারে এসে চরম ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছে একটি পরিবার। ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক আশিকুল ইসলামের স্ত্রী, শ্যালিকাসহ একই পরিবারের ৬ সদস্য এই আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন।
আশিকুল ইসলামের ভাই জানান, আশিকুল দোতলা থেকে লাফ দিয়ে অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচাতে পারলেও তার স্ত্রী ও স্বজনেরা বের হতে পারেননি।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানান প্রথম দফায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ৬টি মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে অনুসন্ধান চালানোর সময় আগুনের শিখা থেকে বাঁচতে টয়লেটে আশ্রয় নেওয়া আরও ৪ জনের পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একজন পাঁচ বছরের শিশু রয়েছে।
নিহত যাদের পরিচয় মিলছে ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) — ঢাকা, বনশ্রী (আশিকুল ইসলামের স্ত্রী), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩) — ঢাকা, বনশ্রী, লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) — ঢাকা, খিলগাঁও (মালিহার বোন). নাফিসতা মীম (২৭) — ঢাকা, খিলগাঁও, ফারিহা কবির (৩৩) — চুয়াডাঙ্গা. ফায়িজান আহমেদ (০৫) — শিশু
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনায় দগ্ধ ও আহত ৭ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে, ডা. শিহাব উদ্দীন (৩১) মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯) ডা. শিহাবের স্ত্রী। অন্যান্য আহতরা মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) এবং সামিদা (৩২)।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এদের মধ্যে ৫ জনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বা পড়ে আহত হওয়া একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি হওয়ায় পুরো তিনতলা ভবনে অতি দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে আগুন নেভানো ও উদ্ধার তৎপরতায় নামেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, কাঠের গঠন কাঠামোর কারণে আগুন দ্রুত গ্রাস করে ফেলে এবং স্থাপনাটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ১০ জনের মরদেহ ও আহতরা সবাই পর্যটক।
প্রাথমিক ধারণায় রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি (ওভেন/স্টোভ) থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ণয় ও দায়িত্ব অবহেলা ছিল কিনা তা অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের তল্লাশি ও অনুসন্ধান অভিযান এখনও জারি রয়েছে।
