বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায়: চুক্তি ও সমঝোতার বিশাল প্যাকেজ, ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা

0
বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায়: চুক্তি ও সমঝোতার বিশাল প্যাকেজ, ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা

কূটনৈতিক প্রতিবেদকঃ জাপানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সফরের মাধ্যমে টোকিওতে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চুক্তি ও সমঝোতার বড় প্যাকেজ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বুধবার স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই সফরের সার্বিক সাফল্য ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমানের রুমন এবং উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ১টি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি, ৪টি সরকারি পর্যায়ের সমঝোতা স্মারক (MoU), ১৭টি বেসরকারি পর্যায়ের সমঝোতা স্মারক, ২টি গুরুত্বপূর্ণ অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেন, “প্রধানমন্ত্রীর এই সফল সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর শক্তিশালী আত্মপ্রকাশ ঘটেছে এবং দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।”

বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে একটি আধুনিক টহলজাহাজ সরবরাহের জন্য ২১২ কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার) অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এখন থেকে যৌথভাবে কৌশলগত কাজ পরিচালনা করবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে জাপান সরকার বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ও সুশাসন বাড়াতে প্রায় ১০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ‘ইয়েন ঋণ প্রকল্প’ নিশ্চিত করা হয়েছে। তৃণমূল বা উপজেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সুশাসন নিশ্চিত করতে জাপান সরকার ১৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১৯৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।

সরকারি আলোচনার বাইরেও দুই দেশের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এসব চুক্তির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই বিনিয়োগসমূহ বাস্তবে রূপ নিলে দেশে প্রায় দুই লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন রূপরেখাও তুলে ধরা হয়। সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে (Elevated Expressway) নির্মাণ করা হবে। দেশের ছয়টি বিভাগে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে জাপানের সার্বিক সহযোগিতা ও প্রতিশ্রুতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।