বিজয়নগরে বিয়ের প্রস্তাবে ‘না’ বলায় রণক্ষেত্র: ১০ জন আহত, ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ

0
বিজয়নগরে বিয়ের প্রস্তাবে ‘না’ বলায় রণক্ষেত্র: ১০ জন আহত, ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কাশিনগর গ্রামের এক কিশোরীর কাছে একই গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়ার বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে কিশোরীর পরিবার এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

বিয়ের প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় পাত্রপক্ষ। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র তর্কবিতর্ক ও তিক্ততার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে গ্রামের দলীয় রূপ নিয়ে সামাজিক সংঘাতের দিকে মোড় নেয়।

বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন রক্তাক্ত আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উত্তেজনার একপর্যায়ে হামলাকারীরা প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে কয়েকটি বসতঘর ভাঙচুর করে এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

খবর পাওয়ার পরপরই বিজয়নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কাশিনগর গ্রামে পৌঁছে কাঁদানে গ্যাস ও কৌশলগত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অন্তত ১০ জন আহত হওয়া এবং কয়েকটি বাড়িঘর ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান জানান, মেয়েসংক্রান্ত পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেই এই সহিংসতার সূত্রপাত।

তবে ঘটনার পর দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। পুলিশ জানায়, বর্তমানে কাশিনগর গ্রামের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।