নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার বহুল আলোচিত মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় আগামী ১১ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। বিচার চলাকালীন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের সব সম্পত্তি লিখে দিয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসাশিক্ষক। তবে আদালত সেই আপসের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
বুধবার নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালতে দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তিতর্ক চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত আগামী ১১ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
এই মামলার সবচেয়ে বড় ও অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে সিআইডির ডিএনএ টেস্টের চূড়ান্ত প্রতিবেদন। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবরেটরিতে করা ডিএনএ পরীক্ষায় ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএ-এর ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনটি আদালতে জোরালোভাবে উপস্থাপন করে। পিপি আশা প্রকাশ করেন, তারা মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন এবং আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে।
যুক্তিতর্ক চলাকালে বিচারকের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ চান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি আদালতকে জানান, তার মাত্র ১২-১৫ শতাংশ জমি রয়েছে। মামলা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে তিনি জীবন ও ওই জমির সব সম্পত্তি দিয়ে দিতেও রাজি আছেন। এ সময় তার স্ত্রী ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হলে তাদের ভরণপোষণ ও দেখাশোনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ব। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আপস ও দেনদরবারের কথা তুললে বিচারক তা সঙ্গে সঙ্গে কঠোরভাবে নাকচ করে দেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওই শিশুকে ফুসলিয়ে ও ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এর ফলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে একটি সন্তানের জন্ম দেয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এতে মূল অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর ছাড়াও তার ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়াকে (৩২) অভিযুক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন, আগামী ১১ নভেম্বর রায়ের দিনে এই নৃশংস ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং অপরাধী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি হবে।

