মুসলিম মেয়েকে জিম্মি করে ধর্মান্তর ও ধর্ষণ গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

0
মুসলিম মেয়েকে জিম্মি করে ধর্মান্তর ও ধর্ষণ গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

কমলগঞ্জ প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তরিত, জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ইমাম-মুয়াজ্জিন ও আলেম-ওলামারা। মানববন্ধন থেকে মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীকান্ত বাউরীসহ পলাতক অন্য আসামিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিনকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন তাঁরা।

গত ৩ নভেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সম্মুখে ইমাম-মুয়াজ্জিন ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি মাওলানা হেলাল আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনিছুল ইসলাম চৌধুরী শাকেরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্থানীয় আলেম-ওলামারা বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, ১৬ বছর বয়সী একজন কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তরিত, জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্ষণের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা যেন আইনের আওতায় আসতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মামলার প্রধান আসামীসহ পলাতক অন্য আসামিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, মামলার তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী কিশোরী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের ডবলছড়া চা বাগানের নিজ বাড়ি থেকে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর কিশোরীকে জিম্মি করে রাখা হয়। এ সময় তাকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত ও বিয়ে দেওয়া হয় এবং ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর একই এলাকার মৃত রবি চন্দ্র বাউরীর ছেলে লক্ষ্মীকান্ত বাউরীর বাড়ি থেকে ওই কিশোরীকে পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় লক্ষ্মীকান্ত বাউরীকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.কমর উদ্দিন একজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।