এস কে রঞ্জন: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে ছাত্রলীগ ক্যাডার রায়হান (২৬) ও সহযোগী হাসানকে (২৩)। রায়হানের অবস্থা খুবই শঙ্কাজনক। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে নেয়া পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। সেখান থেকে জরুরী ভাবে ঢাকায় প্রেরন করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আট টায় কলাপাড়া উপজেলার তেগাছিয়া বাজারে সশস্ত্র এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা জানায় একই এলাকার রাকিবুল মাদবরের নেতৃত্বে তার ছয়-সাত সহযোগী চাপাতির উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয় রায়হান ও হাসানকে। রায়হানের বাম হাতের রগ কেটে ফেলা হয়েছে। ডান হাত, পেটে ও পায়ে আরও পাঁচটি গুরুতর কোপের জখম রয়েছে। এছাড়া হাসানের পিঠে দুইটি গুরুতর কোপের আঘাত রয়েছে। আহতরা জানায় খুনের উদ্দেশ্যে তাঁদের ওপর সশস্ত্র হামলা করেছে। স্থানীয়রা জানায়, আধিপত্য, দলের পদ প্রত্যাশীর লড়াই ও মাদক ব্যবসার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধকে ঘিরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ইউপি মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বয়াতি ও হাবিব নামের অপর এক ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করেছে। অপরদিকে রায়হান সমর্থকরাও রাকিবকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে কলাপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। তাকে প্রথমে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে তাকেও অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে এ ঘটনায় তেগাছিয়া বাজারে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ## কলাপাড়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, তিন জনের নামে মামলা।। কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, ৩০ আগষ্ট।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে বুধবার গভীর রাতে বালুরমাঠে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় স্কুল ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলায় মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের কমরপুর গ্রামের শাহ- আলম চৌকিদারের ছেলে অভিযুক্ত রাকিবুল (২০) ও তার দুই সহযোগী কোমরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর চৌকিদারের ছেলে বাবু (২২) ও জয়নাল ফকিরের ছেলে ওবায়দুল (২৪)কে আসামী করা হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে ধর্ষিতাকে পুলিশ উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। ধর্ষকসহ অপর আসামীদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার বিবরন ও সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর (১৩) দীর্ঘদিন ধরে মোবাইলে ফোনে কথা বলতো কোমরপুর গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাকিবুল। গত বুধবার রাত দুইটার দিকে রাকিবুল কিশোরীর দাদীর ফোনে কল দিয়ে কিশোরীকে ঘরের বাইরে বের হতে বলে। কিশোরী সবার অগোচরে ঘরের বাইরে বের হলে কিশোরীর গলায় ছুরি ধরে রাকিবুল তার দুই সহযোগীর সহায়তায় পাশ্ববর্তী বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে। কিশোরীর পিতার অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মেয়ে দাদীর কাছেই থাকতো। ঘটনার রাতে কিশোরীকে না পেয়ে তার মা তাকে জানালে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুজি করেন। পরদিন ( বৃহস্পতিবার) সকালে মেয়েকে না পাওয়ার বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান। ওইদিন বেলা ১২টার দিকে ধর্ষকরা মেয়েকে কুয়াকাটা থেকে একটি অটোতে উঠিয়ে দিলে মেয়ে বাসায় এসে এ ধর্ষণের ঘটনা তাদের জানান। এ ঘটনার সাথে জড়িত রাকিবুল বৃহস্পতিবার দুপুরেই নিজ দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। একই সাথে পলাতক রয়েছে তার অপর দুই সহযোগী। মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব আলম জানান, কিশোরীর বাবা রাতে থানায় অভিযোগ দাখিলের পরই আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

