চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল শহরে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা

0

মোঃ জালাল উদ্দিন: মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল উপজেলা জুড়ে টানা ২দিন ধরে বৃষ্টি সাথে ঘন কুয়াশা নামছে শীত। দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরে গেছে শ্রীমঙ্গলের রাস্তাঘাট। এতে ভোগান্তির শিকার হন কর্মস্থলে ছুটে চলা লোকজন।

পর্যটন শহরের চৌমুনা থেকে স্টেশন রোড ও ভানুগাছ সড়কের একাত্তরের বধ্যভূমি পর্যন্ত অংশে পিচ ও পাথর চিপস উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে। পৌর শহরের প্রধান সড়কের এমন বেহাল দশায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সড়ক বিভাগ কর্তৃক কিছুদিন পর পর ইটের খোঁয়া – রাবিশ দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করা হলেও সামান্য বৃষ্টি ও যান চলাচলে তা উঠে আবার পুরোনো রূপে ফিরে যায়। চলতি মাসে সৃষ্ট নিম্নচাপে গত দুই দিনের বৃষ্টিপাতে কারণে রাস্তার অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।

ছোট বড় গর্তে পানি জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষদের পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও বেগ পেতে হয়। জমে থাকা পানি যানবাহনের চাকায় পড়ে ছিটকে কাপড় নষ্ট হয় পথচারীদের। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। রেল স্টেশন রোড ও ভানুগাছ সড়কের বধ্যভূমি অংশ পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও কোনো এক সময় আরসিসি ঢালাই হবে এই আশায় সংস্কার হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসা পর্যটকসহ স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীরা জানান, এই রাস্তাগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদের চলাচলে এটাই প্রধান সড়কপথ। খানাখন্দে জীর্ণ এই সড়কে চলাচল করে শ্রীমঙ্গল শহর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে যাচ্ছেন তারা। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে এই রাস্তা দিয়ে রোগীবাহী যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে।
টুরিস্টদের নিয়ে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়ান সিএনজি অটোরিকশা চালক ফরিদ মিয়া তিনি বলেন, ভাঙাচোরা এ সড়কে গাড়ি নিয়ে চলতে অনেক কষ্ট হয়। প্রায় সময় গর্তে পড়ে গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। বেহাল রাস্তার দশা দেখে যাত্রীরা নানা কটুকথা বলেন।

এ বিষযয় জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে। শ্রীমঙ্গল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে আমাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটি সংস্কার কাজ করা হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে আমরা জেনেছি। ইতোমধ্যে রাস্তার টেন্ডার হয়ে গেছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাঠেও নেমেছে। এখন রাস্তায় সার্ভে কাজ চলছে। ১৫-২০ দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা যাবে বলে জানান তিনি।