পীরগাছায় ভুয়া চেকে টাকা উত্তোলন: দুই প্রতারক আটক, মামলা করেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ !

0
আটক প্রতারক

ফজলুর রহমান: রংপুরের পীরগাছায় অগ্রণী ব্যাংক পাওটানারহাট শাখায় ভুয়া একাউন্ট ও চেক ব্যবহার করে চার লাখ টাকা উত্তোলনের ঘটনায় দুই প্রতারককে আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

পরে অপরাধের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। চেক জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকায় পুলিশকে ম্যানেজ করে এমনটি করা হয়েছে দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকসহ স্থানীয় লোকজন। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা না করার বিষয়টি নিশ্চিত করে পীরগাছা থানার ওসি (তদন্ত) শুকুর মিয়া জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা না করায় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রতারণার অভিযোগে আটকৃতরা হলেন মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার চরকামারকান্দি গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে ওমর ফারুক(৩২) ও মাদারীপুর সদর উপজেলার গুণসি গ্রামের আক্কাস আলী শেখের ছেলে নান্নু শেখ(৫০)। পুলিশ, ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে দুই ব্যক্তি অগ্রণী ব্যাংক পাওটানারহাট শাখায় প্রবেশ করে চার লাখ টাকার একটি চেক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেন। কর্তৃপক্ষ চেকটি যাচাই বাছাই শেষে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে জমা দেয়। এসময় ক্যাশিয়ার চেকের বিপরীতে চার লাখ টাকা ওই চেক সরবরাহকারীদের নিকট দিলে তারা টাকা নিয়ে চলে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ও উপস্থিত একাধিক গ্রাহকের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হলে চার কিলোমিটার দূরে সাতদরগা বাজার থেকে ধাওয়া করে ফারুক ও নান্নুকে আটক করে ব্যাংকে নিয়ে আসা হয়। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা চার লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি পীরগাছা থানা পুলিশকে অবগত করা হলে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এঘটনায় পীরগাছা থানা পুলিশ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাঝে গোপন সমঝোতার পর দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে ওই দুই প্রতারক ভুয়া চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন। এসময় তাদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারার কমবেশী হলে আবারো তাদেরকে আটক করা হয়। মামলা করতে গেলে ব্যাংকের লোকজনকে জড়াতে হবে বলে কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে মামলা দায়ের করেনি। অগ্রণী ব্যাংক পাওটানারহাট শাখার গ্রাহক হায়দার আলী জানান, আটক প্রতারক ফারুক ও নান্নুর বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। তারা কি ভাবে এখানে এসে প্রতারণা করেন। অবশ্যই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এর সঙ্গে জড়িত আছেন। তা না হলে তারা মামলা করলো না কেন। ঘটনাস্থল থেকে ওই দুই প্রতারককে আটক ও ৫১ ধারায় ফারুক ও নান্নুকে জেল হাজতে পাঠানো পীরগাছা থানার এস আই আনিছুর রহমান বলেন, ঘটনা সত্য

হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের না করায় আসামীদের ৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক পাওটানারহাট শাখার ব্যবস্থাপক উজ্জল মিয়া তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে। এটা নিয়ে নাড়াচাড়া না করাই ভাল।এতে প্রতিষ্ঠাটির সুনাম নষ্ট হবে। পীরগাছা থানার ওসি আজিজুল ইসলাম জানান, আমি ওই দিন থানায় ছিলাম না। তবে ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু এঘটনায় কেন ৫১ ধারায় প্রতারকদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হলো তা আমার জানা নেই।