ইবি প্রতিনিধি: ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (২৪ আগস্ট) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিন করে পূর্বের স্থানে সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম আশরাফ উদ্দিন, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী এবং শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার পারভেজসহ পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ইসকন তুই জঙ্গি ফ্যাসিবাদের সঙ্গী’, ‘হটাও ইসকন, বাঁচাও দেশ’, ‘তুমিও জানো, আমিও জানি ইসকন মানেই সন্ত্রাসী’, ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, ধর্ষকদের ফাঁসি দে,’ ‘তুমিও জানো, আমিও জানি, ইসকন তুই হিন্দুস্তানি,’ ‘ইসকন তুই জঙ্গি, স্বৈরাচারের সঙ্গী,’ ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই,’সহ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ইসকন দেশব্যাপী মুসলিম নারীদের পরিকল্পিত ধর্ষণ, আলেমদের গুম ও হত্যার হুমকি এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তারা সংগঠনটি নিষিদ্ধের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ইসকন পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে মুসলিম নারীদের টার্গেট করছে এবং ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ, ইসকনের এজেন্ডার বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন, তাদের ওপর গুম, খুন ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সরকারি আইনজীবী আলিফ ইসকনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে নিহত হন। এছাড়া গাজীপুরের এক ইমামকে ইসকনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির অভিযোগে গুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, গত এক মাসে ইসকন সদস্যদের সম্পৃক্ততায় বেশ কিছু ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।
মিছিল শেষে কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম আশরাফ উদ্দিন বলেন, “ ইসকন কোনো ধর্মীয় সংগঠন নয় এটি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং আরএসএস-এর একটি অঙ্গসংগঠন। তারা ধর্মের ছদ্মবেশে আমাদের দেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদ প্রচার করার জন্য মাঠে নেমেছে। তারা আমাদের মুসলমানদের ওপর অস্ত্র ধরছে এবং আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে তামাশা করছে। এই সন্ত্রাসী সংগঠনকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে। সিঙ্গাপুর, আফগানিস্তানের মতো দেশেও তারা নিষিদ্ধ।”

