বাস–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ছেলের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মাথায় বাবারও মৃত্যু

0
বাস–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ছেলের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মাথায় বাবারও মৃত্যু

কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভাগনের বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাবারও মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন—লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার শাহজালাল হাওলাদার (৪৭) এবং তাঁর পিতা হায়দার আলী (৭০)। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলাপাড়া–কুয়াকাটা মহাসড়কের উমেদপুর কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল হাওলাদার তাঁর পিতা হায়দার আলীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ভাগনের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রাম থেকে চাকামাইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে উমেদপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে পিতা-পুত্র দুজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহজালাল হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর পিতা হায়দার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এ পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহ ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে হায়দার আলীও চিরনিদ্রায় শায়িত হন। পিতা-পুত্রের এমন করুণ পরিণতিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হলেও বাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতার আশ্বাস মেলেনি। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর শোকাহত পরিবারটি চরম মানবেতর অবস্থায় পড়লেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বাস কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারকে আর্থিক কোনো সহায়তার আশ্বাস দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবার কোনো মামলা দায়ের করেনি। পরিবার চাইলে এখনও মামলা করতে পারে। মামলা দায়ের করা হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।