নীলফামারী প্রতিনিধিঃ ভোটের আগের দিন নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অর্ধকোটি টাকাসহ আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই তাঁর টাকার ব্যাগটি শনাক্ত হয়েছিল—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর খোদ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কাস্টমসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে শাহজালাল বিমানবন্দরেই বেলাল উদ্দিনের ব্যাগে বিপুল অর্থের অস্তিত্ব ধরা পড়েছিল। এ বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ জানান, স্ক্যানিংয়ে টাকা পাওয়ার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তবে কাস্টমস অনাপত্তি দেওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও যোগ করেন, অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনে বিশেষ কোনো আইনি সীমাবদ্ধতা নেই।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচনের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে একজন রাজনৈতিক নেতার এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের বিষয়টি কেন বিশেষ নজরে আনা হলো না?
ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে সৈয়দপুর পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বেলাল উদ্দিনকে আটক করে। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, ব্যাগে প্রায় ৫০ লাখ নগদ টাকা পাওয়া গেছে, যার কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি।
আটকের কিছুক্ষণ পরই বেলাল উদ্দিন অসুস্থবোধ করলে তাঁকে তাৎক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্সে করে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন।
এদিকে রাজধানীর মগবাজারে এক ব্রিফিংয়ে এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পকেটে টাকা থাকলে কেন ধরা হবে? এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অদ্ভুত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্ন। জামায়াত নেতাদের প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে।”* তিনি অবিলম্বে বেলাল উদ্দিনের মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানান।
ঠাকুরগাঁও সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক বেলাল উদ্দিন দাবি করেছেন, এই টাকা তাঁর ব্যবসার। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিপুল এই অর্থের স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ তিনি পেশ করতে পারেননি। নির্বাচনের আগের দিন এই অর্থ কি ভোটারদের প্রভাবিত করতে না কি কোনো নাশকতা বা নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য ব্যবহার হতো—তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

