ফেরদৌস সিহানুক শান্ত: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুড়ে আমের মুকুলের পাগল করা সুবাসে ভরে উঠেছে পরিবেশ। জেলার হাজার হাজার আমগাছে মুকুল ফুটে উঠায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মৌ-মৌ গন্ধ, যা মানুষের মনকে করছে বিমোহিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সকল উপজেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সারি সারি আম বাগানের গাছগুলো মুকুলে ভরে উঠতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিক ও কৃষকরা। দেশের সুস্বাদু আম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চলের চাষিরা ইতোমধ্যেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যার কাজ সম্পন্ন করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৫টি আমগাছ রয়েছে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন।
জেলার সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন বাগানে মুকুলের আধিক্য চোখে পড়ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, কৃষকরা মুকুলকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করছেন।
সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুর জব্বার বলেন, “এবার বাগানে আগেভাগেই মুকুল এসেছে। কুয়াশায় ক্ষতি না হলে ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।”
শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর এলাকার আমচাষি আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছ এখন মুকুলে ছেয়ে গেছে। তিনি বলেন, “কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা নিয়মিত স্প্রে করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বাম্পার ফলন হবে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী জানান, জেলার প্রায় সব বাগানেই মুকুল আসা শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ গাছে মুকুল দেখা গেছে। তিনি বলেন, “কৃষকদের কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ এবং সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মুকুল সুস্থ থাকে ও ফলন ভালো হয়।”
এ বছর জেলার বিভিন্ন বাগানে গুটি, লক্ষণভোগ, আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষীরসাপাত ও আশ্বিনা জাতের আমগাছে মুকুল দেখা গেছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

