মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে নিরাময় কেন্দ্রগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ: বিভাগীয় কমিশনার

0
মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে নিরাময় কেন্দ্রগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ: বিভাগীয় কমিশনার

মাসুদ রানা রাব্বানী: সমাজে অবহেলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, একটি শিশুকে বড় করা সহজ, কিন্তু একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে কাজ করা কঠিন।

ক্ষয়ে যাওয়া যুবসমাজকে সঠিক পথে ফেরাতে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার সকালে রাজশাহী বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আট জেলার মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রধানদের নিয়ে মাদকের অপব্যবহার রোধে করণীয় শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনাকারীরা ব্যবসায়িক মনোভাব থেকে নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ উদ্যোগ নিয়েছেন।

মাদক নিয়ন্ত্রণে আপনাদের চেয়ে বড় শিক্ষক আর কেউ নেই। আপনাদের অনেকেই হয়তো একসময় ভুক্তভোগী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ফিরে এসে এখন অন্যদের উদ্ধার করছেন। এই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় সম্পদ—এটিকে কাজে লাগাতে হবে, যোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মাদক নিরাময় কেন্দ্র একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। অনেক পরিচালকের মধ্যে অপরাধবোধ ও দায়বদ্ধতা থেকে সমাজ ও দেশের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার মানসিকতা কাজ করছে। আপনাদের এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিদান রাষ্ট্র বা কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়, মন্তব্য করেন তিনি।

মাদক চোরাচালান প্রসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক জব্দের পরিমাণ বেড়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী কিছু মানুষ মাদক পরিবহনকে অপরাধ নয়, ব্যবসা হিসেবে দেখে। এই মানসিকতা পরিবর্তনে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। কর্মশালায় নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকদের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধি, জাতীয় গণমাধ্যমে মাদকের কুফল বেশি প্রচার, নিরাময় কেন্দ্রের অনুদান বাড়ানো, মাদক বিক্রয়ের নতুন কৌশলের

বিপরীতে আধুনিক কর্মপন্থা গ্রহণ এবং সুস্থ হওয়ার পর আসক্তদের উপার্জনক্ষম করতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার সুপারিশ তুলে ধরা হয়। রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ৬১টি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রধানরা অংশ নেন।