ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার নির্বাচনি এলাকায় ধর্মীয় সভা (ওয়াজ) যেমন হবে, তেমনি কীর্তন, বাউল গান ও মাজার সংস্কৃতিও সগৌরবে চলবে। কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা মাজার সংস্কৃতির ওপর আঘাত বরদাশত করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে আশুগঞ্জ উপজেলার দগরীসার মোড়ে আধ্যাত্মিক সাধক আব্দুল কাদির শাহ (রহ.)-এর ৫৮তম স্মরণোৎসব ও বার্ষিক ওরশ মোবারক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশজুড়ে মাজার ভাঙচুর এবং বাউল সাধকদের হেনস্তার কঠোর সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি কীভাবে একের পর এক মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বাউল গানের আসর পণ্ড করা হয়েছে। এমনকি বাউলদের লাঞ্ছিত করে জেলেও পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য রাজনীতিবিদরা নীরব থাকলেও আমি প্রতিটি ঘটনার সংখ্যা ধরে ধরে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ঈদুল ফিতরের পর সিলেটে বাউল গানের আসরে যে ন্যাক্কারজনক ভাঙচুর চালানো হয়েছিল, তা সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থী।
আবদুল কাদির শাহ পাঠাগার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক গোষ্ঠীর নয়, বরং এটি হাজার বছরের মিশ্র সংস্কৃতির দেশ। তিনি বলেন, “আমাদের কৃষ্টি ও শেকড়ের সংস্কৃতিকে লালন করে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই। যারা মাজার সংস্কৃতি ও বাউল গানের সঙ্গে যুক্ত, তারা আমাদের এই মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের সন্তানদের কাছে এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে হবে।”
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনি এলাকার জনগণের উদ্দেশ্যে এক বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, যতদিন তিনি এই এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন, ততদিন এখানে সব ধর্মের ও মতের মানুষের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা বজায় থাকবে। ওয়াজ মাহফিলের পাশাপাশি কীর্তন ও বাউল গানের সুরও সমানতালে অনুরণিত হবে।
আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের উপদেষ্টা আতাউর রহমান বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্বরণোৎসবে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।

