ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অসহযোগিতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত খালখনন কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় না করার অভিযোগ এনে তাকে অবিলম্বে ঈশ্বরদী থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (৩ মে) বিকেলে ঈশ্বরদী রেলগেট এলাকায় উপজেলা জামায়াতের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও খালখনন কর্মসূচি তার তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান ইউএনও সেই প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছেন, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সরকারি নীতিমালার পরিপন্থি।
বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। কিন্তু ঈশ্বরদীর বর্তমান ইউএনও এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাঈদুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমীর গোলাম আজম খান, উপজেলা আইন সম্পাদক হাফিজুর রহমান খান এবং উপজেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মাসুদ রানা মাসুম।
এ বিষয়ে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, “আমার সঙ্গে আলোচনা ও সময় নির্ধারণ করেই খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আগের রাতে ইউএনও মহোদয় কর্মসূচি স্থগিতের কথা জানান। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা ছিল না। আমি নিজে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেছি। অথচ ইউএনও সেখানে উপস্থিত হননি। এটি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি। সেখানে অনুপস্থিত থেকে তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসহযোগিতার পরিচয় দিয়েছেন।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

