জয়নাল আবেদীন॥ রংপুরে বেড়ে উঠা একজন সফল উদ্যোক্তা ফেরদৌসী আরা বেগম। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি কিছু একটা করার ইচ্ছা তাকে সবসময় তাড়া দিতো। ছোট বেলা হতেই রান্নার কাজে তার অনেক আগ্রহ ছিলো। তিনি এইচ এস সি পাশ করার পর অনার্স পড়া অবস্থায় তার বিয়ে হয়ে যায়। তখন থেকেই শুরু হয় তার জীবন সংগ্রাম। এর মাঝেও তিনি বিএ অনার্স কমপ্লিট করেন। তিনি এখন রংপুর মহানগরী কোতয়ালী থানাধীন পশ্চিম মুলাটোলে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তার ২ মেয়ে ১ম মেয়ে অনার্স ২য় বর্ষে ও ২য় মেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ফেরদৌসী আগে থেকেই রান্না করা খাবার বানাতেন ও অনলাইনে সেল করতেন।
করোনার সময় বিপাকে পরে পিছিয়ে যান এই উদ্যাক্তা। আর্থিক অবস্থা ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে হারিয়ে ফেলেন নিজেকে। এরপরও স্বামী মহিউদ্দিন আহমেদ এর সহযোগীতায় কষ্টের মধ্যে প্রথমে তিনি রংপুর নগরীর মুলাটোলে ‘ক্রিয়েটিভ ফুড’ নামে একটি ছোট ফার্স্ট ফুড এর ব্যবসা চালু করেন কিন্তু তিনি এভাবে শূণ্য থেকে শুরু করাতে খুব হিমসিম খাচ্ছিলেন।ঠিক সে সময় তিনি স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আওতায় ১২ দিনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তিনি সেখান আবেদন করেন ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রংপুর অফিসে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমে বগুড়াতে গিয়ে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
এই ১২ দিনের প্রশিক্ষণে তাকে হাতে কলমে শিখিয়েছে কিভাবে সঠিক পণ্য নির্বাচন উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে হয়। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর কৃষি বিপণনের দেয়া কিছু সরঞ্জাম নিয়ে ‘ক্রিয়েটিভ ফুড’ নিয়ে প্রায় শূণ্য থেকেই আবারও তার যাত্রা শুরু হয়। প্রশিক্ষণে তিনি যা শিখছেন তা বাস্তবে কাজে লাগিয়ে নতুন করে মিষ্টি, কেক, পিজ্জা, দই, বার্গার ইত্যাদি বিক্রি শুরু করেন। বর্তমানে এগুলোর পাশাপাশি আলুর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আলু ডিমের রোল, আলু ডিমের কাবাব, চিকেন স্যান্ড উইচ, চিকেন মোমো, ভেজিটেবল রোল তৈরি করে দোকানে ও অনলাইনে বিক্রি করেন।
এরপর হতে যেখানে আগে ১০-১২ হাজার টাকার ব্যবসা হতো এখন সেখানে তার মাসিক আয় প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। বর্তমানে তার স্বামী মহিউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে তার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। সেখানে তার স্বামী তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন।এরপরও থেমে নেই ফেরদৌসী তার লক্ষ্য এই প্রতিষ্ঠানকে বৃহৎ শিল্পে রূপান্তরিত করা, সেখানে অনেক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। যেহেতু রংপুর জেলায় প্রচুর পরিমাণে আলু উৎপন্ন হয়, তার ইচ্ছা আছে আলু ভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলার যেখানে আলুর চিপস, সটার্চ, ফেঞ্চ ফ্রাই ব্যপক ভাবে তৈরি করা ও দোকানে, অনলাইন ডেলিভারী ছাড়াও বাজারে সরবরাহ করা। বর্তমানে তিনি অন লাইন এবং অফ লাইন দুইভাবেই তার ব্যবসায়ীক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
তার ইচ্ছা তার মতো যারা নারী আছেন তাদেরকে তিনি তার জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সাবলম্বী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তার আশা কোন অসহায় নারী অন্যের উপর নির্ভর হয়ে যেন না থাকেন। উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন।তিনি মনে করেন “আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব এবং নতুন কিছু করার সাহস-এই তিনটি গুণ সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি গ্রাহকদের প্রয়োজন বুঝে সে অনুযায়ী সেবা নিতে পারা
একজন উদ্যোক্তার অন্যতম বড় শক্তিচেষ্টা থাকলে জীবন থেমে থাকে না রংপুরের ফেরদৌসী আরা তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ।

