সিলেট ব্যুরোঃ হবিগঞ্জে কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার জের এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা-পাল্টি হুশিয়ারির মুখে সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টানা দুই দিনের পদযাত্রা কর্মসূচিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শঙ্কা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক সুরক্ষায় সিলেট জেলা জুড়ে ৫ প্লাটুন বিজিবিসহ পুলিশ, ডিবি ও এপিবিএন-এর সমন্বয়ে অভূতপূর্ব নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ও শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি উপজেলা—ওসমানীনগর, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জে এনসিপির এই হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব সিলেটে অবস্থান করছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বায়ক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ ও আগামীকালের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার: বিকেল ৩টায় কানাইঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ওসমানীনগরে পদযাত্রা ও সমাবেশ। শুক্রবার: বিকেল ৩টায় কোম্পানীগঞ্জ, বিকেল ৫টায় গোয়াইনঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় জৈন্তাপুরে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
হবিগঞ্জের ঘটনায় ক্ষোভ এবং সিলেটে ছাত্রদলের কিছু নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এনসিপি নেতাদের আশঙ্কা, একটি বিশেষ পক্ষ তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
তবে ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েব আহমদ বলেন, *“আমরা গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু কেউ যদি উসকানিমূলক বা হিংসাত্মক বক্তব্য দেন এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।”*
অন্যদিকে, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার জুনেদ আহমদ কালবেলাকে জানান, সিলেট সম্প্রীতির অঞ্চল হলেও হবিগঞ্জের হামলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের (ডিআইজি) সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা রুখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকির হোসাইন জানান, এনসিপির সফর ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশ, ডিবি, এপিবিএন এবং জেলা পুলিশের পাশাপাশি ৫ প্লাটুন বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে মোতায়েন রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

