কলমাকান্দায় কবরস্থানের জমিতে দোকান নির্মাণ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত ৫৬, বাজারে ভাঙচুর ও লুটপাট

0
কলমাকান্দায় কবরস্থানের জমিতে দোকান নির্মাণ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত ৫৬, বাজারে ভাঙচুর ও লুটপাট

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কবরস্থানের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় আমগড়া বাজারের একাধিক দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের আমগড়া ও বানেশ্বরপাড়া গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমগড়া এলাকায় রাস্তার পাশে অবস্থিত প্রায় ১৮ কাঠার একটি কবরস্থানের জমি নিয়ে আমগড়া ও বানেশ্বরপাড়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

শুক্রবার সকালে আমগড়া গ্রামের একটি পক্ষ ওই কবরস্থানের সীমানায় রাস্তার পাশে জোরপূর্বক দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এতে বানেশ্বরপাড়া গ্রামের লোকজন বাঁধা দিলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা দুই গ্রামের শত শত মানুষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাতের রূপ নেয়।

দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চালানো এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৬ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৬ জনকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংঘাতের একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা আমগড়া বাজারে প্রবেশ করে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সহিংসতা এড়াতে বর্তমানে এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান “কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়েই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”