রংপুরে সাবেক শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ খুন: ইয়াবা সেবন শেষে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা, লুটের পর বাথরুমে গোসল ও নাস্তা

0
রংপুর নগরীতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

জয়নাল আবেদীনঃ রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ইয়াবা সেবনের পর ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে শিক্ষক ও তার পরিবারকে ঠাণ্ডা মাথায় শ্বাসরোধে হত্যা করে দুই মাদকাসক্ত প্রতিবেশী। হত্যাকাণ্ডের পর তারা নিহতের বাড়িতে গোসল সারে, ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায় এবং স্বর্ণালংকার লুট করে চম্পট দেয়।

এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহতরা হলেন—জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ১২ বছরের ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ইয়াবা সেবন শেষে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ দিয়ে শিক্ষক গণপতির বাড়ির ছাদে ওঠে। শব্দের উৎস খুঁজতে খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে উঠে আসেন গণপতি চক্রবর্তী। সেখানে অপরাধীরা ধরা পড়ার ভয়ে তার গলার গামছা পেঁচিয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

গণপতির পতনের শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে তাকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয়। মায়ের আর্তচিৎকারে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধ করে তারা। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গামছার পাশাপাশি গলা ও বুকে রশি পেঁচিয়ে টানা হলে তার চোয়াল ভেঙে যায়। সবশেষে সিদ্ধার্থের ছোট ভাইয়ের খেলার সঙ্গী ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকেও কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর ধৃত দুই ঘাতক অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ওই বাড়ির বাথরুমে গিয়ে গোসল করে। এরপর ডাইনিং টেবিলে থাকা খেজুর ও শসা খেয়ে সেখানে আরও একটি ইয়াবা সেবন করে। ঘটনাটিকে ডাকাতি প্রমাণের উদ্দেশ্যে তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে।

প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে তারা দুটি স্মার্টফোন ডিটারজেন্ট পানিতে চুবিয়ে রাখে। এরপর বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার আগুনে পুড়িয়ে খাঁটি কি না পরীক্ষা করে তা লুট করে নেয়। উদ্ধারকৃত মালামাল তারা স্থানীয় একটি মন্দিরের পেছনের পরিত্যক্ত বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল, যা পরবর্তীতে পুলিশ উদ্ধার করে।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তা ফাঁকা হলে তারা এলাকা ত্যাগ করে। শনিবার রাতে বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে চারজনের লাশ উদ্ধার করে। রোববার মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়, কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।