জামালপুর প্রতিবেদক: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনোয়ার জাহিদ মাখনের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এবার আসিফ বিল্লাহ ওরফে অনিক নামে এক ব্যক্তির ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আসিফ বিল্লাহ মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি বেলাল হোসেনের ছেলে।এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিও ভাইরালের পরেও আনোয়ার জাহিদ মাখনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইয়াবা সেবন এর দায়ে কোন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শুনা যায়নি। নেতা কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন ব্যবস্থা কি নিতে পারবে উপজেলা বিএনপি? আনোয়ার জাহিদ মাখনের খুটির জোর কোথায়?
জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে প্রায় ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে টিনশেডের একটি ঘরের ভেতরে আনোয়ার জাহিদ মাখনের পাশে এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। ওই ব্যক্তিকে পাইপসদৃশ একটি বস্তু ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী। একই সঙ্গে আনোয়ার জাহিদ মাখনকে অব্যাহতির জন্য উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি এবং শ্রমিক দলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেতা কর্মীরা ।
অন্যদিকে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে নির্দোষ প্রমাণের দাবি করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্যাড ও লোগো ব্যবহার করা একটি কথিত ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে রিপোর্টটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিষয়টি নিয়ে বিজিডি ই-গভ সার্টি প্রকল্পের পরিচালক, প্রকল্প সহকারী সিস্টেম এনালিস্ট এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাজমুল হক খন্দকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রিপোর্টটি এডিট করা। এ ধরনের কোনো ঘটনা বা কেস তাদের কাছে আসেনি এবং তাদের দপ্তর থেকে এমন কোনো ফরেনসিক রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, বিষয়টি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা বিটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি দেখবে।
এ বিষয়ে বালিজুড়ী এলাকার সুমন অভিযোগ করে বলেন, আসিফ বিল্লাহ ওরফে অনিকের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে মাদারগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলায় কারাভোগের ঘটনা রয়েছে। তার দাবি, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসিফ বিল্লাহসহ কয়েকজনের আইডি থেকে কথিত ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ওই পোস্ট আর দেখা যায়নি।সুমন আরও অভিযোগ করেন, আসিফ বিল্লাহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি দপ্তরের অফিসারদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। এমন কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
বিএনপি কর্মী সুলতান জানান, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি আনোয়ার জাহিদ মাখনকে দ্রুত দল থেকে বহিষ্কার করা হোক। ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। আর আসিফ বিল্লাহ বিএনপির আত্মীয় স্বজনদের পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে প্রচুর লেখা পোস্ট দেয়৷ আসিফ বিল্লাহ মাদক ব্যবসায়ী। দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা হোক।
মাদারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জামালপুর জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক বাবু জীবন কৃষ্ণ বসাক বলেন, জেলার সভাপতির সাথে কথা বলে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজুর কাদের বাবুল খান বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে, আমরা দেখতেছি।

