কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই শীর্ষ স্থানীয় নেতার সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের নলচর এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এ দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবি সরকার এবং একই ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল বারেক প্রধানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুজনই চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও প্রার্থী হতে চাওয়ায় এই কোন্দল চরম রূপ নেয়।
বিরোধের জের ধরে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রবি সরকারের বাড়ির সামনে আব্দুল বারেকের অনুসারীরা ককটেল বা বাজি ফুটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার ভোরে বারেক প্রধানের লোকজন রামদা, টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে রবি সরকারের অনুসারীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুরো নলচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাসেল আহমেদ ভূঁইয়া জানান, হাসাপাতালে আসা আহতদের মধ্যে ১৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুতর আহত জামাল ও সালমা নামের দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক বিরোধে ইটের পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

