টাঙ্গুয়ার হাওরে ফিরছে ইজারাদারির পুরোনো ছায়া, নয়হাল বিল দখলের চেষ্টার অভিযোগ

0
টাঙ্গুয়ার হাওরে ফিরছে ইজারাদারির পুরোনো ছায়া, নয়হাল বিল দখলের চেষ্টার অভিযোগ

তাহিরপুর প্রতিবেদক: হাওরের জলে সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, বদলেছে ব্যবস্থাপনার ধরনও। একসময় যে জলরাশি ছিল ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণে, সেই টাঙ্গুয়ার হাওরকে ২০০৩ সালে মুক্ত করা হয় বাণিজ্যিক ইজারার শৃঙ্খল থেকে। কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় পর সেই পুরোনো ইজারাদারির ছায়াই কি আবার ফিরতে শুরু করেছে হাওরের বুকে? নয়হাল বিল ঘিরে ওঠা নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের অভিযোগে এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরের বাফার জোনের অন্তর্ভুক্ত নয়হাল বিলের ‘নয়আনি’অংশ ইজারা নিয়ে সীমানার বাইরেও নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার পক্ষের বিরুদ্ধে।স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ,রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব’-এর কথা বলে ইজারার বাইরের জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন জেলেদের দিয়ে মাছ আহরণ করা হচ্ছে। এতে টাঙ্গুয়ার হাওর সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সদস্যরা নির্ধারিত সময়ে পারমিট ক্রয়ের মাধ্যমে মৎস্য আহরণের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছে।

জানা যায়,টাঙ্গুয়ার হাওর প্রায় ৬০-৭০ বছর ইজারার অধীনে ছিল।হাওরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় ১৯৯৯ সালে একে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ECA) ঘোষণা করা হয়।এর ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে পুরোপুরি বাণিজ্যিক ইজারা প্রথা তুলে দেওয়া হয় এবং হাওরের ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার দায়িত্ব সরাসরি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করা হয়।

এ ঘটনায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রামসিংহপুর, হুকুমপুর ও দুমাল এলাকার স্থানীয় জেলেরা।

অভিযোগকারীরা টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সদস্য।তাদের দাবি,সরকারি নিয়মে পারমিট ও অনুমোদিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাছ ধরাই তাদের প্রধান জীবিকা।টাঙ্গুয়ার হাওরে পারমিটভিত্তিক মৎস্য আহরণ ব্যবস্থা ২০০৯ সাল থেকে চালু রয়েছে। IUCN-এর নথিতে ২০১৩ সালে ২১টি এবং ২০১৪ সালে ২৮টি দূরবর্তী বা বাফার জোনের বিলে এ ব্যবস্থায় মৎস্য আহরণের তথ্য রয়েছে।

জেলেরা জানান,গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টি ও আগাম বন্যায় তাদের বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে মাছ ধরাই এখন পরিবারের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন।এ সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হলে তারা চরম সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।

অভিযোগে নয়হাল বিলের প্রকৃত ইজারা সীমানা নির্ধারণ,রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব’-এর আইনগত ভিত্তি যাচাই, ইজারার বাইরে মৎস্য আহরণের অভিযোগ তদন্ত এবং বৈধ পারমিটধারী জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন,এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এখন প্রশ্ন—২০০৩ সালে বাণিজ্যিক ইজারা প্রথা বাতিলের পরও নয়হাল বিলের ইজারার সীমানার বাইরে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব’-এর নামে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে? প্রশাসনিক তদন্তেই পরিষ্কার হবে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র।