টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানায় অনিয়ন্ত্রিত আগুন: ফায়ার সার্ভিসের ২১ ইউনিটের সঙ্গে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন; তীব্র যানজট

0
টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানায় অনিয়ন্ত্রিত আগুন: ফায়ার সার্ভিসের ২১ ইউনিটের সঙ্গে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন; তীব্র যানজট

সুমন গাজীঃ গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় অবস্থিত ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর কারখানায় সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতি রূপ নিয়েছে আরও জটিল ও আশঙ্কাজনক রূপ। কারখানার ভেতরে থাকা কেমিক্যালের কারণে আগুনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তা নেভাতে হিমশিম খাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। উদ্ভূত সংকটময় পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ ও অগ্নিনির্বাপণ সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ইউনিট-২ কারখানায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করলেও কেমিক্যালের তীব্রতায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের একটি চারতলা ‘পেনসিলিং’ ভবনে। মুহূর্তেই ধাউ ধাউ করে জ্বলতে থাকা লেলিহান শিখা ও প্রচণ্ড তাপে ভবনের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল, প্রস্তুতকৃত ওষুধ ও কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ভস্মীভূত হয়ে যায়।

আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে চলায় একে একে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরাসহ আশপাশের স্টেশনগুলো থেকে ইউনিট বাড়ানো হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে কাজ করছে।

তবে অগ্নিকাণ্ড ও আতঙ্কের জের ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ায় ফায়ার সার্ভিসের নতুন ইউনিটগুলোকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে। সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা, ভিড় সামলানো এবং দুর্ঘটনাস্থলে পানির লরি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। কারখানায় সংরক্ষিত কেমিক্যালের বিষাক্ত ও উৎকট গন্ধে সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্ট ও দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে উৎসুক জনতা ও স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহিন আলম জানান “সকাল পৌনে ১০টার দিকে আগুন লাগার পর আমাদের কর্মীরা তাৎক্ষণিক সাড়াদেন। তবে কারখানার কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ২১টি ইউনিট একযোগে কাজ করছে এবং সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহায়তায় আমরা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

এখনও পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক অবস্থায় আগুনের সুনির্দিষ্ট সূত্রপাত এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হবে।