
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মেলান্দহে চার বছরের দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিক আলী হোসেনের (২২) বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন দুই সন্তানের জননী এক নারী (গার্মেন্টসকর্মী)। তাঁর গুরুতর অভিযোগ—সম্পর্ক চলাকালে তিনি নিজের কষ্টার্জিত টাকা প্রেমিককে দিয়েছেন, এমনকি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর প্রেমিকের খরচেই গর্ভপাত করাতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় বিয়ের বদলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি ‘রফা-দফা’ (মীমাংসা) করার অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্য থেকে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি নারায়ণগঞ্জের ‘ফারিয়া গার্মেন্টস’-এ সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলেন। মেলান্দহের টুপকারচরে নানার বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে ফেসবুকে পরিচয় হয় নাংলা ইউনিয়নের রূপসীহাঁটা গ্রামের সুরুজ্জামান ওরফে হুটকুর ছেলে আলী হোসেনের সঙ্গে।
পরিচয় থেকে প্রণয়—দীর্ঘ চার বছরের এই ভালোবাসার টানে ওই নারী গার্মেন্টসের উপার্জিত টাকা নিয়মিত পাঠাতেন আলী হোসেনকে। প্রেমিকের মন জোগাতে কেনাকাটাও করে দিতেন তিনি। নারীর দাবি, প্রেমের সুবাদে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আলী হোসেনের পাঠানো টাকাতেই গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য হন।
গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত মেলান্দহের ডেফলা এলাকায় ফুফাতো বোনের জামাইয়ের বাড়িতে তাঁরা একসঙ্গে অবস্থান করেন। এরপর রবিবার দুপুরে জিন্নাহ মার্কেট এলাকায় আলী হোসেন ‘মায়ের অসুস্থতা’ ও ‘প্রকৃতির ডাক’-এর অজুহাত দেখিয়ে নারীর ব্যাগ রেখে কৌশলে সটকে পড়েন।
এরপর থেকে প্রেমিকের আর কোনো খোঁজ না পেয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সরাসরি রূপসীহাঁটা গ্রামে আলী হোসেনের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন তিনি। এ সময় বাড়িতে কাউকে পাওয়া না গেলেও ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই নারীর ঘনিষ্ঠ দুই ফুফা ও স্থানীয় এক নেতার মধ্যস্থতায় ঘটনাটি আইনের আশ্রয় না নিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় রফা-দফা (মীমাংসা) করা হয়।
তবে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, মীমাংসার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর রাতে জাকারিয়া আহমেদ জুয়েল নামে এক নেতা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন।
টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া আহম্মেদ জুয়েল বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে রাতে আমি ভুক্তভোগীকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। তবে ৭ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়, আমি মাত্র ১ হাজার টাকা নিয়েছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শিপুল ফকির জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত জানেন না এবং জুয়েলের সঙ্গে কথা বলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবেন।
অন্যদিকে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
