হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার প্রধান আসামি

0
হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার প্রধান আসামি

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার পৌরসভাস্থ লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে সরোয়ার কামাল (২৪) নামের এক যুবককে হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  রবিবার (১৯ অক্টোবর)  সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে শহরের লাইট হাউজ পাড়া এলাকা থেকে আটক করে সদর থানা পুলিশের এস আই চিন্ময় বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি টিম।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোহাম্মদ রায়হান (২৪)। নিহত সরোয়ার কামাল তার আপন মামাতো ভাই এবং তারা দুজনই পেশায় রংমিস্ত্রি ছিলেন বলে জানা গেছে।

যা ঘটেছিল লাইট হাউজ পাড়ায়: পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫, শনিবার দুপুর অনুমানিক সোয়া ১১টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের লাইট হাউজ পাড়ায় একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত সরোয়ার কামাল একই এলাকার মো. আবুল কালামের ছেলে। আর গ্রেপ্তারকৃত রায়হান একই এলাকার আতিকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রংমিস্ত্রির কাজ নিয়ে সরোয়ার ও রায়হানের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রায়হান ক্ষিপ্ত হয়ে কাঁচের টুকরা দিয়ে সরোয়ারের বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সরোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কক্সবাজার জেলা পুলিশের নজরে আসার পরপরই কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ও মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট অলক বিশ্বাস এক প্রেস রিলিজে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামি মোহাম্মদ রায়হানকে ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার নিজ এলাকা লাইট হাউজ পাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পেনাল কোডের ধারা ৩০২ (হত্যার দায়)-এ মামলা (এফআইআর নং-৪৫) রুজু করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস আরও বলেন, “এ ধরনের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পর আসামি যাতে দ্রুত আইনের আওতায় আসে, সে জন্য পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিহত সরোয়ার কামাল সাবেক বিজিবি সদস্য আবুল কালামের একমাত্র সন্তান। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তার স্বজনরা।