বারেক ফরাজীঃ এক বুক হাহাকার আর কোলে ১৩ মাস বয়সী শিশুকন্যার নিথর দেহ—এই ছবিই আজ স্তব্ধ করে দিয়েছে ঝালকাঠিকে। প্রেমিকের প্রতারণা, নবজাতককে রাস্তায় ফেলে দেওয়া এবং অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ এনে ঘাতক প্রেমিকের ফাঁসির দাবিতে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন এক অসহায় মা। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাউতিতা সড়কে এই নজিরবিহীন ও শোকাতুর মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ভুক্তভোগী মা লিয়া মনি আক্তারের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে একই এলাকার হৃদয় ব্যাপারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের জেরে লিয়া গর্ভবতী হয়ে পড়েন। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে লিয়াকে বিয়ে করে ঘরে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে হৃদয় ও তার স্বজনরা নবজাতক জেসমিনকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে তারা শিশুটিকে নির্দয়ভাবে রাস্তার পাশে ফেলে রাখেন। সেখান থেকে এক ভিক্ষুক শিশুটিকে উদ্ধার করে একটি চাইল্ড হোমে (শিশু সদন) পাঠিয়ে দেন।
ঘটনার তিন মাস পর লিয়া মনির পরিবার শিশুটির অবস্থান জানতে পারে। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর চলতি বছরের ৯ মার্চ চাইল্ড হোম থেকে শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে অযত্ন আর অবহেলায় দীর্ঘ সময় কাটানো শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে পুনরায় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ১৩ মাস বয়সে শিশু জেসমিনের মৃত্যু হয়।
সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে মানববন্ধনে লিয়া মনি আর্তনাদ করে বলেন, “আমার মেয়ের এই করুণ মৃত্যুর জন্য দায়ি শুধু হৃদয় ব্যাপারী। আমি এই ঘাতকের ফাঁসি চাই।”
উল্লেখ্য, শিশুটিকে উদ্ধারের দিনই (৯ মার্চ) লিয়া মনি বাদী হয়ে হৃদয় ব্যাপারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি মামলা করেন। তবে অভিযুক্ত হৃদয়ের বাবা আবুল ব্যাপারী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানিয়েছেন, “ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”

