ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বৈরথে নতুন মোড়: ট্রাম্পের চুক্তির দাবি ও ইরানের ‘না’

0
ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বৈরথে নতুন মোড়: ট্রাম্পের চুক্তির দাবি ও ইরানের ‘না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বরাজনীতির রঙ্গমঞ্চে এখন সবচেয়ে বড় রহস্যের নাম ‘ওয়াশিংটন-তেহরান সংলাপ’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির ‘সবগুলো বড় বিষয়ে’ ঐকমত্য হয়েছে, ঠিক তখনই তেহরান সেই দাবিকে স্রেফ ‘ভুয়া খবর’ (Fake News) বলে উড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের আশাবাদ, অন্যদিকে ইরানের কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন ঘন কুয়াশা।

সোমবার ফ্লোরিডার বিমানবন্দর থেকে মিসিসিপির উদ্দেশ্যে যাত্রা করার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের এক প্রকার চমকে দেন। তার দাবি, গত রোববার থেকে শুরু হওয়া ‘জোরালো আলোচনা’ সোমবারও অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়: “আমরা প্রধান প্রধান সব বিষয়ে একমত হতে পেরেছি। তারা (ইরান) একটি চুক্তির জন্য মরিয়া, আর আমরাও শান্তি চাই। সম্ভবত আজ রাতেই ফোনে আমাদের চূড়ান্ত কথা হবে।”

ট্রাম্পের এই দাবির পেছনে কাজ করছে তার দুই বিশ্বস্ত সেনানি—মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের একজন ‘অত্যন্ত সম্মানিত শীর্ষ নেতা’র সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন তারা। এমনকি উত্তেজনার পারদ কমাতে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্ভাব্য হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত করারও ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই ‘শান্তির বার্তা’র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এক্সে (X) পোস্ট করে পুরো বিষয়টি নাকচ করে দেন। তিনি দাবি করেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তেহরানের কোনো পর্যায়ের কোনো সরাসরি বৈঠক বা যোগাযোগ হয়নি। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা যুদ্ধের শর্তাবলী পরিবর্তনের প্রশ্নে ইরান বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি। ইরানের দাবি, ট্রাম্প কেবল তেলের দাম কমাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজার শান্ত রাখতে এই ‘কাল্পনিক’ আলোচনার গল্প ছড়াচ্ছেন।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আরও কঠোর ভাষায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে গেছে, তা থেকে দৃষ্টি সরাতেই এই ‘ফেক নিউজ’ ছড়ানো হচ্ছে।

ট্রাম্প যে ‘সম্মানিত নেতা’র কথা বলছেন, তার নাম তিনি প্রকাশ করেননি। তবে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, এই আলোচনায় ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পরিবর্তে অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব যুক্ত থাকতে পারেন। যদিও ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, তিনি মোজতবা খামেনির সাথে কোনো কথা বলেননি।

আগামী পাঁচ দিন বিশ্ববাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি ট্রাম্পের দাবি সত্যি হয় এবং ফোনে কোনো বড় সিদ্ধান্ত আসে, তবে তা হবে এই দশকের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। আর যদি এটি কেবলই ট্রাম্পের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হয়, তবে পাঁচ দিন পর ইরানের ওপর আবারও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা থাকছে।