ফেনী প্রতিনিধিঃ ফেনীতে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুমকে গুলি করে হত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ২১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর আমলি আদালত) মোহাম্মদ হাসান মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ফেনীতে দায়ের হওয়া ২২টি মামলার মধ্যে এটিই প্রথম কোনো মামলা, যার অভিযোগপত্র আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করলেন। এর আগে, গত বছরের ৩১ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা ২১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন। বুধবার দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ন্যায়বিচারের পথে এটি একটি বড় ধাপ। আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা দিয়েছেন।”
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেন কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম। আন্দোলন চলাকালে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিহত মাসুম ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর তার ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক এজাহারে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও তদন্ত শেষে ২১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

