আজকের ডেস্কঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনী ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক বিতর্কিত আচরণে। নির্বাচনী আচরণবিধি পর্যবেক্ষণ করতে আসা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং প্রকাশ্য ‘হুঁশিয়ারি’ দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় একটি উঠান বৈঠক চলাকালীন এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সূত্রে জানা যায়, রুমিন ফারহানা যখন নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখছিলেন, তখন পুলিশসহ সেখানে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার হাসান খান। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সভাটি বন্ধ করতে বললে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রুমিন ফারহানা।
তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে বলেন, “অন্যরা আপনাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেও আপনারা কিছু বলতে পারেন না। আজ আমি ভদ্রভাবে কথা বলছি, এটাই শেষবার। নেক্সট টাইম আমি আর ভদ্রতা দেখাব না।” একপর্যায়ে তিনি হাত উঁচিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম, আই এম ওয়ার্নিং ইউ।” এসময় তার সমর্থকরাও উত্তেজিত হয়ে শ্লোগান দিতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খান ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানান, নির্বাচনী বিধিমালা সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন হওয়ায় সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে রুমিন ফারহানার সমর্থক জুয়েল মিয়াকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আরও যোগ করেন, “আচরণবিধি রক্ষায় আমাদের উপস্থিতি অপরিহার্য, কিন্তু প্রার্থী যাওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন।”
ঘটনা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের কাছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, অন্য প্রার্থীরাও নিয়মিত ঘরোয়া বৈঠক করছেন, কিন্তু কেবল তাকেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে নিরপেক্ষ আচরণ প্রত্যাশা করেন।
উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন রুমিন ফারহানা। জোটগত কারণে এই আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

