বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে (তিনশো ফিট সড়ক) ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো পথে আসা এবং কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টকে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মোছা. স্বপ্না (২৭) ও মাহফুজুর রহমান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ আকতার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্ত দুজনকে এই কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাফিক বাড্ডা জোন সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের একটি পয়েন্টে উল্টো পথে দ্রুতগতিতে একটি মোটরসাইকেল আসতে দেখেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট। সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি মোটরসাইকেলটিকে থামার সংকেত দেন। গাড়িটি থামার পর সার্জেন্ট উল্টো পথে আসার কারণ জানতে চেয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলে আরোহী স্বপ্না ও মাহফুজুর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়)। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই আরোহী কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের সঙ্গে উগ্র আচরণ করছেন। বিশেষ করে নারী আরোহী স্বপ্না হেলমেট হাতে সার্জেন্টের দিকে তেড়ে যান, তাকে উদ্দেশ্য করে উচ্চবাচ্য করেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে দায়িত্ব পালনে বাঁধা সৃষ্টি করেন। এতে জনসমক্ষে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সরকারি কাজে বাধাদান, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং প্রকাশ্য সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে হেনস্তার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
ডিএমপির ডিসি আকতার হোসেন বলেন, “রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সাথে অসদাচরণ বা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায়শই উল্টো পথে যানবাহন চলাচলের কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। ট্রাফিক বিভাগের এ ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপকে সাধারণ পথচারী ও সচেতন নাগরিকেরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

