
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও পুলিশ ভেরিফিকেশনে আটকে পড়া প্রার্থীদের সংকট কাটাতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথম দফায় বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীদের যাচাই-বাছাই শেষে মাঠপর্যায়ে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র ইস্যু কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা ও বৈষম্যহীন সমাধানের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এরই মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, রাজবাড়ী ও খুলনাসহ অন্তত সাতটি জেলায় প্রথম দফায় বাদ পড়া প্রার্থীদের দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে অন্য জেলাগুলোতেও এই প্রক্রিয়া জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রংপুর বিভাগের এক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বিভাগীয় উপপরিচালকের নির্দেশনায় প্রতিটি জেলায় বাদ পড়া প্রার্থীদের তালিকা পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগপত্র ইস্যু করার কাজ চলছে। তবে ঠিক কোন নীতিমালার ভিত্তিতে বা কী মানদণ্ডে এই যাচাই-বাছাই চলছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য কর্মকর্তা পর্যায় থেকে জানানো হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান জানান, সরকারের নির্দেশনাক্রমেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোকে বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ইস্যুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সারা দেশের বিভাগগুলোতে একই ধরনের সাধারণ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় নিয়োগপত্র না পেয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয় উত্তীর্ণদের মধ্যে। অভিযোগ উঠে, রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে অনেকের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতিবাচক ভেরিফিকেশন রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। অনেক উপজেলায় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারী কিংবা কোনো ফৌজদারি মামলা না থাকা প্রার্থীরাও নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগে দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শতাধিক নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেও এই আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন তারা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, রাজনৈতিক বিবেচনা বা ভেরিফিকেশনের অজুহাতে কাউকেই বাদ দেওয়া যাবে না এবং চূড়ান্ত তালিকায় নির্বাচিত সব ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকেই নিঃশর্ত নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হলে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সামাজিক যোগাযাোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের পূর্বে প্রশাসনিক ভেরিফিকেশন বা ভেটিং ব্যবস্থা একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া।
শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “১ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত উত্তীর্ণদের মধ্যে কেউ যদি প্রথম দফায় নিয়োগপত্র না পান, তবে তাদের বিষয়টি পর্যায়ক্রমে প্রশাসনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করে নতুন করে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। চূড়ান্ত ফলাফলের সুনির্দিষ্ট তালিকা অনুসারে কতজন শিক্ষার্থী ভেরিফিকেশনের কারণে প্রথম দফায় আটকে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
