কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান

0
কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান

আজকের ডেস্কঃ দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল)-এর পাঠানো এক বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় জানানো হয়েছে—গত ১৫ অক্টোবর কাতারের পুলিশ শেখ আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিপুল অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রথম মামলায় শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের উৎসের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া তার একক ও যৌথ নামে থাকা ৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পায় সংস্থাটি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় সাবেক বিমান প্রধানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমকে প্রধান আসামি এবং হান্নানকে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তাহমিদা বেগম তার জ্ঞাত আয়ের বাইরে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানকালে তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

শেখ আব্দুল হান্নান ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে তিনি ২০২১ সালের ১২ জুন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১৬তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি স্বাভাবিক অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার কিছুদিন পরই তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করে।

বর্তমানে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।