‘হৃদয়ে অমর, ইতিহাসে অক্ষয়’: সংসদ চত্বরে স্মরণাতীত নাগরিক শোকসভায় খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা

0
‘হৃদয়ে অমর, ইতিহাসে অক্ষয়’: সংসদ চত্বরে স্মরণাতীত নাগরিক শোকসভায় খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ “বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই”—দেশপ্রেমের এই কালজয়ী দর্শনকে সঙ্গী করে আজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অশ্রুসিক্ত নয়নে স্মরণ করেছে জাতি। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নজিরবিহীন নাগরিক শোকসভায় সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে বিএনপির কোনো নেতা বা খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য বক্তব্য রাখেননি; বরং অরাজনৈতিক নাগরিক সমাজের কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে সদ্যপ্রয়াত এই নেত্রীর গৌরবগাথা।

এক নেত্রীর ঠাঁই হৃদয়ে, অন্যজন বিতাড়িত: আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ইসলাম তাঁর স্মৃতিচারণে বলেন, “বেগম জিয়ার দুঃসময়ে তাঁর পক্ষে কথা বলার মানুষ পাওয়া যেত না। আজ সময়ের ব্যবধানে দেখা যাচ্ছে, একজন নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আর অন্যজন দেশ থেকে বিতাড়িত। তিনি ছিলেন সত্য ও সাহসের মূর্ত প্রতীক।”

ভবিষ্যতের বাংলাদেশ ও খালেদা জিয়ার দর্শনঃ শোকসভায় বক্তারা বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবদানের কথা তুলে ধরেন। দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তাঁকে গত ১০০ বছরের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। ডেলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, “নির্যাতন সয়েও তিনি প্রতিশোধের বদলে ধ্বংস নয়, ভবিষ্যতের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর এই উদারতা আমাদের লালন করতে হবে।”

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, খালেদা জিয়ার আমলেই দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ও শিল্পায়ন শুরু হয়েছিল। ব্যবসায়ী সিমিন রহমান তাঁর বাবার স্মৃতি উদ্ধৃত করে বলেন, “বেগম জিয়া ব্যবসায়ীদের সবসময় নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করতেন।”

শোককে শক্তিতে রূপান্তরের ডাকঃ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে শোককে শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান। লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ তাঁকে ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিজয়ী প্রথম প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে ইতিহাসের অন্যতম প্রধান অংশীদার বলে অভিহিত করেন। সভাপতির ভাষণে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন রাষ্ট্রীয়ভাবে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধিতে ভূষিত করার দাবি জানান।

উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান ও বিশিষ্টজনরাঃ শোকসভায় দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শার্মিলা রহমান। প্রধান উদ্যোক্তা অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুবউল্লাহর পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. শাহদীন মালিক, এবং মানবাধিকার নেত্রী আইরিন খান।

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রতিনিধিকে সেখানে দেখা যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।