জয়নাল আবেদীন: রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে প্রতীক পেয়েই প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। তফশীল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর কথা থাকলেও প্রতীক পেয়ে নিজ এলাকার পাড়া- মহল্লায় ছুটে গিয়ে গণসংযোগ শুরু করছেন তারা।
নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ভোটাররাও তাদের নানা অভিযোগ-অনুযোগ তুলে ধরছেন প্রার্থীদের কাছে।বুধবার (২১ জানুয়ারী) দিনব্যাপী বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসেন।
এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করেন।রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি কর্পোরেশন) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপি’র মোকাররম হোসেন সুজন (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির ব্যারিষ্টার মঞ্জুম আলী (লাঙল), জামায়াতের রায়হান সিরাজী (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মাকর্সবাদী) আহসানুল আরেফিন (কাঁচি), ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা (হাতপাখা) ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোঃ আনাস (মোমবাতি)।রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মন্ডল (লাঙল), বিএনপি’র মোহাম্মদ আলী সরকার (ধানের শীষ), ইসলামী ন্দোলনের আশরাফ আলী (হাতপাখা) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র আজিজুর রহমান (তারা)।রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির জিএম কাদের (লাঙল), বিএনপি’র সামসুজ্জামান সামু (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল (হাতপাখা), জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের আব্দুল কুদ্দুস (মই), তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী (হরিণ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মাকর্সবাদী) আনোয়ারা হোসেন বাবলু (কাঁচি) ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান (সূর্যমূখী)।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপি’র এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মোঃ মাহবুবার রহমান (লাঙল), এনসিপি’র আখতার হোসেন (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলনের জাহিদ হোসেন (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা (রিক্সা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায় (ডাব), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মাকর্সবাদী) প্রগতি বর্মণ তমা (কাঁচি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাসার (হরিণ)।রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের গোলাম রব্বানী (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপি’র গোলাম রব্বানী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এসএম ফখর উজ জামান (লাঙল), ইসলামী আন্দোলনের গোলজার হোসেন (হাতপাখা), নাগরিক ঐক্যের মোফাখখারুল ইসলাম নবাব (কেটলি), বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি-সিপিবি’র আবু হেলাল (কাস্তে), আমার বাংলাদেশ পার্টি’র আব্দুল বাছেত (ঈগল), বাংলাদেশের মাজতান্ত্রিক দলের (মাকর্সবাদী) বাবুল আক্তার (কাঁচি) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহবুবুর রহমান (ডাব)।রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপি’র সাইফুল ইসলাম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া (লাঙল), জামায়াতের নুরুল আমীন (দাঁড়িপাল্লা), আমার বাংলাদেশ পার্টির ছাদেকুল ইসলাম (ঈগল), ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মাহমুদ (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মোঃ জাহিদ (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার শাহিদুল ইসলাম (ফুটবল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকিয়া জাহান চৌধুরী (সূর্যমূখী)।
রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা যেন বিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা করেন এ বিষয়ে তাদের দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। আশা করছি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

