বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিনের সমাবেশের বিশেষ আকর্ষণ ছিল তারেক রহমানের সরাসরি জনসম্পৃক্ততা। মঞ্চ থেকে নিচে নেমে এসে সাধারণ মানুষের হাতে মাইক তুলে দেন তিনি। ভাষানটেকের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের মুখ থেকে একে একে শোনেন এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো। বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন, নারীদের কর্মসংস্থান ও ফ্যামিলি কার্ডের দাবিতে সাধারণ মানুষের আকুতির জবাবে তিনি বলেন, “আমি এই এলাকারই সন্তান। গত ৫০ বছর ধরে এখানেই বড় হয়েছি। ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে ইনশাআল্লাহ আপনাদের এসব সমস্যার সমাধান আমি নিজেই করব।”
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “গত ১৫-১৬ বছর দেশের প্রতিটি সেক্টর ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকলে জবাবদিহিতা থাকে না। আমি চাই আগামী দিনে জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনবেন, যেমনটি আজ আমি করছি।”
তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি বলেন, “আমরা ছেলে-মেয়েদের পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে ক্রীড়া দিয়েই তারা জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। আমরা প্রতিভাগুলোকে খুঁজে বের করব।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত জনতাকে নিয়ে শপথে অংশ নেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমাদের মূলমন্ত্র হবে—করব কাজ, সবার আগে বাংলাদেশ।” কেবল ঢাকা-১৭ আসন নয়, সারা দেশের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষের বিকল্প নেই।”
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর ঢাকা-১৭ আসনে এটিই তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। সমাবেশে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

