‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: যাত্রাবাড়ীতে জামায়াত আমির’

0
‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: যাত্রাবাড়ীতে জামায়াত আমির’

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশবাসীকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থ হলো স্বাধীনতা বা আজাদি, আর ‘না’ মানে হলো পুনরায় গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ হওয়া।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজ এলাকায় ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আজাদির লড়াই ও গণভোটঃ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদের শিকড় চিরতরে উপড়ে ফেলতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের কোনো বিকল্প নেই। এই লড়াকু জাতি আজাদির জন্য লড়াই করছে এবং বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। ইনশাআল্লাহ, আমাদের জয় সুনিশ্চিত।”

যাত্রাবাড়ীর রক্তঋণ ও প্রতিশ্রুতিঃ জুলাই বিপ্লবে যাত্রাবাড়ীর অবদানের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, “গত আন্দোলনে এই যাত্রাবাড়ীতেই সবচেয়ে বড় গণহত্যা চালানো হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের আত্মত্যাগের ঋণ আমরা সবার আগে পরিশোধ করব।” তিনি আরও অঙ্গীকার করেন যে, ক্ষমতায় গেলে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে।

কওমি মাদ্রাসার পূর্ণ স্বীকৃতিঃ দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এ দেশের সাধারণ নাগরিকের মতোই ট্যাক্স দেয় এবং অধিকার রাখে। অতীতে তাদের প্রতি কেবল ‘সামান্য সম্মান’ প্রদর্শন করা হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। জামায়াতে ইসলামী সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলে তাদের রাষ্ট্রীয় পূর্ণ মর্যাদা ও অধিকার সুনিশ্চিত করবে।”

মাঠের সংকট ও উন্নয়ন পরিকল্পনাঃ যাত্রাবাড়ী এলাকায় খেলার মাঠের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাঠ না থাকায় রাস্তার পাশে এই জনসভা করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টদায়ক। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পেলে আমরা পরিকল্পিত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নির্মাণের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব।”

জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে তিনি দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন।