‘অদূরদর্শী নেতৃত্বে সরকার লেজেগোবরে অবস্থায়, দেশে ফ্যাসিবাদী কায়দা চালানোর চেষ্টা’: মিয়া গোলাম পরওয়ার

0
‘অদূরদর্শী নেতৃত্বে সরকার লেজেগোবরে অবস্থায়, দেশে ফ্যাসিবাদী কায়দা চালানোর চেষ্টা’: মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজনৈতিক অপরিপক্বতা, চরম অপেশাদারিত্ব ও অদূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাত মাসের মাথায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন/চলতি সরকার পুরোপুরি লেজেগোবরে ও দিশেহারা অবস্থায় পড়েছে বলে তীব্র মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের চারজন মন্ত্রী-এমপির বিদায় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অদক্ষতার এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজার রহমান ইরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার লেবার পার্টির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “বর্তমানে দেশে অনেক ভুঁইফোড় রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছে, যাদের মূল কাজই হলো বিভিন্ন তদবির, লেজুড়বৃত্তি ও পদ-পদবির ভাগ-বাটোয়ারা করা। তবে লেবার পার্টি কোনো প্রলোভন বা লোভনীয় প্রস্তাবের কাছে নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দেয়নি। আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ইসলামি ও দেশপ্রেমিক শক্তির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের পক্ষ থেকে লেবার পার্টিকে ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্বিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের চরম দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি জানান:

বর্তমানে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশেরও ওপরে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।

গার্মেন্টসসহ সকল শিল্প খাতের শ্রমিক পরিবারের জীবনযাপন এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে শ্রমিকদের নতুন ‘ন্যূনতম মজুরি’ পুনর্নির্ধারণের জোর দাবি জানান তিনি।

শিল্প খাতে দেখা দেওয়া সাম্প্রতিক অসন্তোষ ও শ্রমিক ক্ষোভের দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানোর প্রবণতাকে সরকারের নিজের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার এক অপচেষ্টা বলে আখ্যা দেন তিনি।

সরকারের কড়া সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের রেখে যাওয়া বিতর্কিত গোয়েন্দা সেটআপ ও পুলিশ প্রশাসনকে এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আপসহীন ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। সরকারের দুর্নীতি, চরম দলীয়করণ ও ব্যর্থতার সমালোচনা করলেই সেটিকে ‘অস্থিতিশীলতা’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টতই নতুন করে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের লক্ষণ।

সংসদের চিফ হুইপের সম্প্রতি দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত নিয়োগের সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে সাধারণ জনগণ গণভোটের মাধ্যমে প্রায় ৭০ ভাগ রায় দিয়েছিল। কিন্তু সরকার জনগণের সেই স্পষ্ট রায় বাস্তবায়ন না করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় একনায়কতন্ত্র চালিয়ে যেতে চাইছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন”ভুল সিদ্ধান্ত ও রাজপথ উত্তপ্ত করার মতো নীতি গ্রহণ করে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনরায় পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ করে দেবেন না। এখনও সময় আছে—সংসদের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনতিবিলম্বে আলোচনায় বসুন। জনগণের গণরায় ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়ন করুন।” অনুষ্ঠানে অন্যান্য ১১ দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখেন এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর জোর দেন।