জয়নাল আবেদীন: ঐতিহাসিক পল্টন ট্রাজেডি রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার এই নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে বুধবার বিকেলে রংপুর টাউন হল অডিটরিয়ামে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং রংপুর মহানগর আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য ও রংপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা রায়হান সিরাজী।আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি বলেন, শহীদের রক্তের উপর একদিন এদেশে ইসলামী সমাজ ব্যাবস্থা গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, বিগত ২০ বছরে নির্মম জুলুমতন্ত্র চালিয়ে জামায়াতের অগ্রযাতা স্তব্ধ করা যায়নি। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগিবৈঠার পৈচাশিক নৃশংসতা কোন সভ্য সমাজের পরিচয় নয়। সেদিন সাপের মত পিটিয়ে লাশের উপর পৈচাশিক নৃত্য করেছিল তারা। আওয়মীলীগ সেদিন প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে এই নির্মম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। আমরা সকল হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাওলানা রায়হান সিরাজী এমপি বলেন, ২৮ অক্টোবরের লগিবৈঠার পৈচাশিক নৃশংসতার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেদিনের সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভুমিকা ছিল রহস্য জনক।
আমাদের উপর জেল,জুলুম, হত্যা, ক্রসফায়ার, নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। আল্লাহ তাদের এই জুলুমের জবাব দিয়েছে। টাউন হল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সেক্রেটারী আনোয়ারুল হক কাজল, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আল আমীন হাসান, শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি এবং জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারী এডভোকেট কাওছার আলী, কোতয়ালী থানা আমীর মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, মাহিগঞ্জ থানা সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট রবিউর ইসলাম এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।
আলোচনাসভা শেষে এক প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রধান সড়কে বের হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ গণমিছিলটি নগরীর টাউন হল চত্বর, পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ, জুলাই চত্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর সিটি বাজার, সুপার মার্কেট, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানী মোড়, প্রেসক্লাব চত্বর, গ্রান্ড হোটেল মোড় হয়ে শাপলা চত্বরে গিয়ে এই বিশাল বিক্ষোভ গণমিছিল শেষ হয়।

