ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় বিসিবির অনড় অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে চূড়ান্তভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশের জায়গায় সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার সরব হয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সরকার চাইলে বিশ্বকাপ বয়কট করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
আইসিসি’র অনড় অবস্থান ও স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, তারা ভারতের ভেন্যুগুলোতে ‘সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি’ খুঁজে পায়নি। আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা বোর্ড সদস্যদের এক চিঠিতে জানান, বিসিবির দাবি আইসিসি’র বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ার পর আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের ১৪ নম্বর দল স্কটল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এর ফলে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড কলকাতা ও মুম্বাইয়ের ভেন্যুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি, ইংল্যান্ড ও নেপালের মুখোমুখি হবে।
বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান: বয়কটের হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশের ওপর আইসিসি’র এই ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আইসিসি’র বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ তোলেন।
নাকভি বলেন, “বাংলাদেশও পাকিস্তান বা ভারতের মতো আইসিসি’র সমান সদস্য। যদি অন্যদের জন্য হাইব্রিড মডেল (শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ) থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশের দাবি কেন মেনে নেওয়া হলো না? আমরা আইসিসি’র চেয়ে আমাদের সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি বেশি অনুগত। পাকিস্তান সরকার যদি বলে খেলবো না, তবে আইসিসি ২২তম দল (উগান্ডা) নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করুক।” তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দেশে ফিরলেই পাকিস্তান তাদের চূড়ান্ত অবস্থান বা ‘প্ল্যান বি’ বাস্তবায়ন করবে।
নেপথ্যে মোস্তাফিজ ইস্যু ও নিরাপত্তা শঙ্কা
মূলত গত ৩ জানুয়ারি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বিসিবি এই কঠোর অবস্থান নেয়। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, “একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা দিতে না পারলে পুরো দল ও দর্শকদের নিরাপত্তা ভারত কীভাবে দেবে?” বিসিবি দাবি করেছিল তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করতে, কিন্তু আইসিসি’র বোর্ড সভায় অধিকাংশ দেশ ভারতের পক্ষে ভোট দিলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
বিসিবির শেষ চেষ্টা
আইসিসি’র চিঠি পাওয়ার পরও হাল ছাড়ছেন না বিসিবি পরিচালকরা। তাঁরা সভাপতি আমিনুল ইসলামকে শেষবারের মতো আইসিসি’র উচ্চপর্যায়ে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে আইসিসি ইতিমধ্যেই স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দেওয়ায় এবং বিসিবির ‘প্রটোকল লঙ্ঘন’ (আইসিসিকে জানানোর আগে সংবাদ সম্মেলন করা) নিয়ে অভিযোগ তোলায় বাংলাদেশের ফেরার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

