সর্বজনীন পেনশন থেকে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রত্যাহারের দাবিতে বেরোবিতে মৌন মিছিল

0
সর্বজনীন পেনশন থেকে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রত্যাহারের দাবিতে বেরোবিতে মৌন মিছিল

জয়নাল আবেদীন: সরকারের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত থেকে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কালো ব্যাজ ধারণ করে মৌন মিছিল করেছে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসের রাসেল চত্বর থেকে মৌনমিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে । এই কর্মসুচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন ।

মৌনমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. বিজন মোহন চাকী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ। তাঁরা বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে যোগদানকৃতদের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা বৈষম্যমূলক। এ ধরনের বৈষম্য বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে শিক্ষাদর্শনের চেতনা থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বায়ত্তশাসন দিয়েছিলেন, এ প্রজ্ঞাপন সেই চেতনাকে অবজ্ঞা ও অবমাননা করার শামিল।বক্তারা আরো বলেন, সর্বজনীন বলতে আমরা বুঝি, সবার জন্য। কিন্তু উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে শিক্ষকদের ওপর যে স্কিম চালু করা হচ্ছে, এটি খুবই বৈষম্যমূলক। নতুন যেই পেনশন স্কিম সরকারি কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য চালু করা হলো সেটা কিভাবে সর্বজনীন পেনশন স্কিম হয়? সার্বজনীন মানে সবার জন্য―এতে কি কোন অস্পষ্টতা আছে? সবার জন্য যদি হয়, তাহলে সরকারি কর্মকর্তাগণ এর আওতার বাইরে থাকবেন কেন? বর্তমান পেনশন ব্যবস্থাপনায় পারিবারিক পেনশন থাকার কারণে অবসরভোগীর অবর্তমানে তাঁর স্ত্রী বা স্বামী কিংবা প্রতিবন্ধী সন্তান আজীবন পেনশন পাবেন। এমনকি তাঁর অবিবাহিত কন্যারাও এর কিছু সুবিধা পাবেন। এর সঙ্গে মূল অবসরভোগীর বয়সের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ প্রত্যয় স্কিমে অবসরভোগী কর্মী ৭৫ বছর বয়সে মারা গেলে তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য আর কোনো সুবিধা পাবেন না।

শিক্ষক নেতারা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা পেশায় প্রতিনিয়ত সুযোগ সুবিধা কমানো হচ্ছে, নতুন নতুন নিয়মের শিকলে বন্দি করা হচ্ছে‒ফলে দেশের মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন। বিশ^বিদ্যালয়ে সার্বজনীন পেনশন চালু হলে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হবে। শিক্ষক মেধাবী না হলে শিক্ষার্থীরা ভাল কিছু শিখতে পারবে না ও তাদের মেধা বিকশিত করতে পারবে না। সর্বোপরি দেশের জনগণ একটি অথর্ব মেধাশূন্য জাতিতে পরিনত হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিজস্ব পরিচয় রয়েছে, নিজস্ব সিন্ডিকেট রয়েছে, সিনেট রয়েছে। অতএব, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কখনই যায় না। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ প্রতিবাদ নীতি নির্ধারকসহ প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং বৈষম্যমূলক এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হবে। সেইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আলাদা স্বতন্ত্র বেতন কাঠানো প্রণয়নসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। নতুবা দাবী আদায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালবিদ্যালয় পরিবার সব ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন শিক্ষক নেতারা।