গণতন্ত্রের নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ: ১২ ফেব্রুয়ারির ‘মহা-নির্বাচন’ ঘিরে বিশ্বব্যাপী তোলপাড়

0
গণতন্ত্রের নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ: ১২ ফেব্রুয়ারির ‘মহা-নির্বাচন’ ঘিরে বিশ্বব্যাপী তোলপাড়

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ। এদিন কেবল ৩০০ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট পড়বে না, বরং একই ব্যালটে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের সংবিধান ও শাসনকাঠামোর রূপরেখা। এই জোড়া কর্মসূচি—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ গণভোট—পর্যবেক্ষণে নামছে দেশি-বিদেশি বিশাল এক বহর।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় অংশগ্রহণ: ১৬টি দেশ থেকে আসছেন ৫৭ জন প্রতিনিধি। মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১৪ জন এবং তুরস্কের সাবেক রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ১২ জন সংসদ সদস্যের শক্তিশালী দল এই তালিকায় শীর্ষে।

বড় জোটের নজরদারি: কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের দলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আদ্দো। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশাল মিশনের প্রধান লাতভিয়ার ইভার্স ইজাবস।

আঞ্চলিক সংস্থা: এশীয় নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। তারা সারা দেশের ৭১ শতাংশ জেলায় তাদের পর্যবেক্ষক দল মোতায়েন করবে।

নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা একটি ঐতিহাসিক ব্যালট পেপার পাবেন, যেখানে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তৈরি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুমোদনের জন্য ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট চাওয়া হবে। এই সনদের উল্লেখযোগ্য সংস্কার প্রস্তাবগুলো হলো:

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ (সিনেট) গঠনের প্রস্তাব।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা (Term limits) এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি।

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা: স্থায়ীভাবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামো তৈরি।

আইনসভার সংস্কার: সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা (৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার)।

তফসিল অনুযায়ী, এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ২ হাজার প্রার্থী । নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে:

৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামীসহ প্রায় সব বড় দলই মাঠে রয়েছে। তবে সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি অংশগ্রহণ ও তাদের ইমেজ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখনো নানা বিতর্ক ও আইনি জটিলতা বিদ্যমান।

জাতীয় নাগরিক দল (NCP) সহ নতুন অনেক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ জানিয়েছেন, বিদেশি অতিথিদের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ হেল্প ডেস্ক এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘মিডিয়া সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সাথে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোট বাংলাদেশের জন্য একটি ‘ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড’ (Benchmark) হিসেবে কাজ করবে।