আকতার হোসেনঃ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী গণসংযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকালে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন জামায়াত কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চকিদার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি বাজারেও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় বের হলে বিএনপির কর্মী বাহার ও সৌরভের নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে ইউনিয়ন জামায়াত আমির আব্দুল হালিমসহ ১০-১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ফয়জুল্লাহ, ইমন, শাহে আলমসহ ছয়জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং গুরুতর দুইজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে টবগী ইউনিয়নে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার আলম খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সকালে জামায়াত কর্মীরা এক বিএনপি কর্মীর বাড়িতে প্রচারণায় গেলে সেখানে এক নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ায় বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর জামায়াত কর্মীরা জড়ো হয়ে এলাকায় মহড়া দেয় এবং বিএনপি কর্মী ইউসুফের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কারী মো. আকবর হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই হামলার ঘটনায় তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মনোরঞ্জন বর্মণ বলেন, “উভয় পক্ষ মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

