বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৭ মাসে (আগস্ট ২০২৪ – ডিসেম্বর ২০২৫) দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-র গবেষণায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ে ঘটা মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার মধ্যে ৫৫০টিতেই বিএনপির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যা শতাংশের হিসেবে ৯১.৯ ভাগ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত মাইডাস সেন্টারে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষক শাহজাদা এম আকরাম ও মো. জুলকারনাইন।
গবেষণায় ১৭ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয়, রাজনৈতিক সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৫৮ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দলের সম্পৃক্ততা ছিল নিম্নরূপ:

প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের দখলে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক খাতের নিয়ন্ত্রণ নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা ও সংঘাত দেখা গেছে। বিশেষ করে: পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি। সিলেটের পাথর কোয়ারি ও নদ-নদী থেকে লুটপাট। সেতু, বাজার, বালু মহাল ও জল মহালের ইজারা নিয়ন্ত্রণ।
টিআইবি উল্লেখ করেছে, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের অরাজকতা থামানো যাচ্ছে না।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল ‘সবচেয়ে দুর্বল’ জায়গা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনেই ১৫ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও কিছু উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরা হয়: থানা থেকে লুট হওয়া ১,৩৩৩টি অস্ত্র এখনো নিখোঁজ। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত জনবলের মাত্র ৯-১০% পুলিশ সদস্য, যা সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং ‘মব’ তৈরি করে বলপূর্বক দাবি আদায়ের প্রবণতা মোকাবিলায় সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তা ও তোষণমূলক’ অবস্থান ছিল দৃশ্যমান। ১২ ফেব্রুয়ারি এবং তার পরবর্তী সময়েও বড় ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
নির্বাচনি ব্যবস্থায় অর্থ, পেশীশক্তি এবং ধর্মের অপব্যবহার প্রকট হওয়ার দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণে জানায় টিআইবি। এছাড়া ১২ হাজার ৫৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের অনুপযোগী এবং ইসির বাছাই করা ৭৩টি পর্যবেক্ষক সংস্থার অনেকগুলোই ‘নামসর্বস্ব’ বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।
বিচারের ক্ষেত্রে ঢালাও মামলার আসামি করা, গ্রেপ্তার বাণিজ্য এবং বিচারবহির্ভূত বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকা সরকারের অন্যতম ঘাটতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে টিআইবি।

