বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের গণপদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। সংঘর্ষে নারী কর্মীসহ শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় শুরু থেকেই জাতিসংঘের সরাসরি তদারকিতে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে সংগঠনটি। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই তারা যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়েছিলেন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে জমায়েত হয়ে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে রওনা হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বিকেল ৩:৫০ মিনিট আন্দোলনকারীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দফায় দফায় জলকামান, টিয়ারগ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হন। ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড পেজ ও জাবেরের ফেসবুক আইডি থেকে জানানো হয়, “জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে।” টিয়ারগ্যাস ও পুলিশের লাঠিচার্জে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। তাদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, আজ সকালেই নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে কয়েক হাজার সরকারি কর্মচারী যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ তাদের ওপরও জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই দিনে দুটি পৃথক বড় আন্দোলনের কারণে শাহবাগ, মিন্টো রোড ও কাকরাইল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বর্তমানে সাময়িকভাবে রাজপথ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক বার্তায় বলা হয়েছে: “আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না। আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসব। প্রতিহিংসা নয়, আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে রয়েছে এবং ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় তারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শরিফ ওসমান হাদি গত ১৫ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার হত্যার তদন্ত নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে চিঠি দেওয়ার কথা বলা হলেও আন্দোলনকারীরা ‘সরাসরি জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত’ এবং দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে অনড় রয়েছে।

