সুন্দরবনের ৫ পর্যটনকেন্দ্রে ৯ বস্তা প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ- বর্জ্যমুক্ত সুন্দরবনের আহ্বান

0
বর্জ্যমুক্ত সুন্দরবনের আহ্বান

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির: সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস)। পূর্ব সুন্দরবনের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে তিন দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বড় আকারের ৯ বস্তা প্লাস্টিকসহ বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর বর্জ্য অপসারণ করেছেন সংগঠনের ৬৫ সদস্য। সাগর থেকে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা প্লাস্টিক বর্জ্যও এ সময় সংগ্রহ করা হয়।

টোয়াস সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও পর্যটন মৌসুমের শুরুতে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা পর্যটনকেন্দ্রে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে গিয়ে তিন দিনের এ অভিযান শেষ হয়।

অভিযানে কটকা, জামতলা সি-বিচ, কচিখালী, ডিমেরচর ও আন্ধারমানিক পর্যটনকেন্দ্র পরিষ্কার করা হয়। এসব এলাকায় পড়ে থাকা এবং সাগর থেকে জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে বনের বিভিন্ন স্থানে আটকে থাকা প্লাস্টিক ও অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়।

অভিযানের উদ্বোধন করেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা শামীম রেজা মিঠু, টোয়াসের সভাপতি মইনুল ইসলাম জমাদ্দার, সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম কচি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহা জামাল পপলু, দপ্তর সম্পাদক শাহেদ মো. ইমরান ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহেদী ইসলাম রকি।

ডিএফও এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। টোয়াসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান একটি ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সুন্দরবন রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

টোয়াসের সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, তিন দিনের কর্মসূচিতে পাঁচটি পর্যটনকেন্দ্র থেকে বড় আকারের ৯ বস্তা ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব বর্জ্য খুলনা সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনে দেওয়া হবে। তিনি জানান, কর্মসূচিতে টোয়াসের ৬৫ জন সদস্য অংশ নেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলো থেকে ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ একটি চলমান কার্যক্রম। বনরক্ষীরা নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি টোয়াসের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতেও নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।

পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে প্লাস্টিক বর্জ্য শুধু সৌন্দর্য নষ্ট করে না, দীর্ঘমেয়াদে বন্যপ্রাণী ও জলজ পরিবেশের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যটন মৌসুমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্লাস্টিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা জরুরি।ছবি: সংযুক্ত