বাংলাদেশ প্রতিবেদক: নয় ঘণ্টার ম্যারাথন ভোটযুদ্ধ শেষে সম্পন্ন হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ভোট গ্রহণ। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। তবে সাড়ে ৪টার পরেও দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে যারা সীমানার ভেতরে লাইনে অপেক্ষমাণ ছিলেন, তাদের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমানে কেন্দ্রগুলোতে শুরু হয়েছে ভোট গণনা; এখন সারা দেশের মানুষের নজর ‘ম্যান্ডেট’-এর দিকে।
নির্বাচনের মূল চিত্র: এক নজরে
ভোট গ্রহণ শুরু: সকাল ৭:৩০ মিনিট। ভোট গ্রহণ শেষ: বিকেল ৪:৩০ মিনিট। মোট আসন: ২৯৯টি (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত)। মোট কেন্দ্র: ৪২,৭৭৯টি। ভোটের হার (দুপুর ২টা পর্যন্ত): ৪৭.৯১ শতাংশ (৩৬,০৩১ কেন্দ্রে)।
এবারের নির্বাচনে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে লক্ষণীয়। সকালের দিকে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে আগামীর রাষ্ট্র গঠন এবং সংবিধান সংস্কারের (গণভোট) প্রশ্নে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে নিজেদের মতামত প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারে অংশ নেওয়ার বাড়তি উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে মাঠ পর্যায়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী: প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সেনাবাহিনী: এক লাখেরও বেশি সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেল জানিয়েছে, দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশের ৪৮৬টি কেন্দ্রে ছোটখাটো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৯টি স্থানে জালভোট প্রদান এবং ৩টি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে ৩ জন নির্বাচনী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও বেশ কিছু জায়গায় টেন্ডার ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশের প্রবাসী ভোটারদের জন্য এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা ছিল। ভোট গণনা শেষে আজ রাত থেকেই কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল আসা শুরু করবে এবং শুক্রবার ভোরের মধ্যেই নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ও বেসরকারি ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

