বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের ফলাফল ঘোষণা ও পরবর্তী রাষ্ট্রীয় রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই গণভোট কেবল একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের রক্তের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের চূড়ান্ত বৈধতা।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত হিসেব অনুযায়ী, এবারের গণভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল গত সংসদ নির্বাচনের চেয়েও বেশি, যা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে বিরল।
মোট ভোটার উপস্থিতি: ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন ( ৬০.৮৪%)।
সংস্কারের পক্ষে (‘হ্যাঁ’ ভোট): ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন (৬৮.০৬%)।
সংস্কারের বিপক্ষে (‘না’ ভোট): ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন (৩১%)।
আলী রীয়াজ বলেন, “৬০ শতাংশের বেশি মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের এই প্রক্রিয়ায় কেবল শরিক নয়, বরং প্রধান অংশীদার।”
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের ফলে নবনির্বাচিত সংসদ পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের কিছু প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য থাকবে। প্রধান পরিবর্তনগুলো হলো:
ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রী একটানা দু’বারের বেশি (সর্বোচ্চ ১০ বছর) ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে নতুন ভারসাম্য আনা হবে।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দুই কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠিত হবে। উচ্চকক্ষটি ১০০ সদস্যের হবে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন হবে।
সংবিধান সংশোধন: ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল একক সিদ্ধান্তে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীতে বাধ্যতামূলকভাবে গণভোটের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা: নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য নতুন আইন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।
অধ্যাপক রীয়াজ তাঁর বক্তব্যে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “জনগণের এই রায় হচ্ছে ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের স্বীকৃতি।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার পথ চিরতরে রুদ্ধ করার আইনি ম্যান্ডেট পাওয়া গেছে।
বিশেষ সহকারী আরও জানান যে, এই গণভোট কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ছিল না। বরং এটি এমন একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরির চেষ্টা, যেখানে ভবিষ্যতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা ফ্যাসিস্ট হওয়ার সুযোগ পাবে না। “জনগণ আজ স্থিতাবস্থা বা স্ট্যাটাস কু (Status Quo) প্রত্যাখ্যান করে সংস্কারের পথে যাত্রা শুরু করেছে,”—বলেন আলী রীয়াজ।

