
হাবিবুর রহমানঃ ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশের তরুণরা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি। নবগঠিত যুবভিত্তিক রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাত্র ৬টি আসনে জয় পেয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। অন্যদিকে, ২০৯টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি।
বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল গত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত।
তরুণ ভোটারদের প্রত্যাখ্যান: ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান রয়টার্সকে বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি। কিন্তু জামায়াতের সাথে জোট করাটা আমাদের কাছে জুলাইয়ের চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হয়েছে।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলেন, “এনসিপি নতুনত্বের স্বপ্ন দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরোনো রাজনীতির মেরুকরণে ঢুকে পড়েছে। এতে তরুণ ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং মানুষ তুলনামূলক সুসংগঠিত শক্তি হিসেবে বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে।”
বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ নির্বাসন ও রাজনৈতিক লড়াই শেষে দলীয় প্রধান হিসেবে তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। বিএনপি সমর্থকদের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ, তবে তরুণ প্রজন্মের এক বিশাল অংশ এনসিপির ব্যর্থতায় কিছুটা হতাশ।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ যেমনটি বলেছিলেন, জনগণ আর ‘পুরোনো বন্দোবস্তে’ ফিরতে চায় না—সেই আকাঙ্ক্ষা গণভোটে প্রতিফলিত হলেও সংসদীয় নির্বাচনে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক শক্তিই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছে। এনসিপির জন্য এই ফলাফল একটি কঠোর বার্তা যে, কেবল তারুণ্যের আবেগ নয়, বরং নির্ভুল কৌশলই রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।
